হিংসা থেকে বাঁচার উপায়

নিঃসন্দেহে হিংসা অন্তরের কঠিনতম রোগের মধ্যে একটি। এটা বিভিন্ন মানুষের মধ্যে দেখা যায়, হোক সে মুসলিম কিংবা অমুসলিম। কোন কোন আলেম বলেছেন, হিংসা থেকে কেউই মুক্ত নয়। পার্থক্য হচ্ছে যারা ভাল মানুষ তারা এটাকে লুকিয়ে রাখে আর সাধারন মানুষ এটাকে প্রকাশ করে। হিংসা মানুষকে ক্রোধের দিকে নিয়ে যায়। আর ক্রোধ প্রতিশোধ পরায়ণতা ডেকে আনে। অতঃপর সে তার ভাইয়ের উপর বিনা কারণেই প্রতিশোধ নেয়ার জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে।অতঃপর সে তার ভাইয়ের সম্মানহানি করে, না হয় তার সম্পদের ধ্বংস কামনা করে এবং তা ধ্বংস করার চেষ্টা করে। এমনকি রক্তপাত করতে দ্বিধাবোধ করে না। হিংসার মাধ্যমে না সে নিজের কোন উপকার করতে পারে, না তার ভাইয়ের কোন অপকার করতে পারে, না নিজে এই কবিরা গূনাহ থেকে মুক্ত হতে পারে।

মহান আল্লাহপাক বনী-ইসরাঈলকে হিংসা দিয়ে পরীক্ষা করেছিলেন। আল্লাহপাক তাঁর পবিত্র কিতাবে উল্লেখ করেছেন,

“নাকি যাকিছু আল্লাহ তাদেরকে স্বীয় অনুগ্রহে দান করেছেন সে বিষয়ের জন্য মানুষকে হিংসা করে। অবশ্যই আমি ইব্রাহীমের বংশধরদেরকে কিতাব ও হেকমত দান করেছিলাম আর তাদেরকে দান করেছিলাম বিশাল রাজ্য।

(৪ঃ৫৪)

যখন আরবরা কারো ব্যাপারে প্রশংসা করে তখন তারা বলে থাকে, অমুক এবং অমুক মুহাসসাদ।
মুহাসসাদ মানে হচ্ছে ভাগ্যবান। অর্থাৎ যার উপরে আল্লাহর নেয়ামত পরিপূর্ণ হয়েছে।

আর তার এই নিয়ামতই তার জন্য দুর্ভাগ্য নিয়ে এসেছে। কারণ তা অন্যদের হিংসার কারণ হয়েছে।

হিংসা বা হিংসুকের হিংসা থেকে বাঁচার উপায় কিঃ

সর্বপ্রথম যা করতে হবে তা হচ্ছে, মহান আল্লাহতালার কাছে সাহায্য চাইতে হবে, তার কাছে ক্ষমা চাইতে হবে, তার কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করতে হবে। এরপরের কাজটা হচ্ছে সূরা ফালাক এবং সূরা নাস পাঠ করা নিয়মিত। হিংসা থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য এই দুটি সূরার ফজিলত পরীক্ষিত। সহিহ হাদিসে এর বর্ণনা এসেছে।
তৃতীয় কাজ হচ্ছে যারা হিংসা করে থাকে বা যাদের ব্যাপারে আমি নিশ্চিত যে এরা হিংসা করে, তাদের থেকে দূরে থাকা। তাদেরকে এড়িয়ে চলা এবং তাদের সামনে নিয়ামত গুলোকে প্রকাশ না করা।

আজকাল অনেকেই ফেসবুক বা ইনস্টাগ্রামে অথবা সোশ্যাল মিডিয়াতে তার উপর আল্লাহর যে নিয়ামত, সেগুলো দ্বিধাহীন চিত্তে প্রকাশ করে থাকে। এই অভ্যাস থেকে কঠোর ভাবে নিজেকে দূরে রাখতে হবে।

আমাদের পূর্ববর্তীদের বিভিন্ন ঘটনার বর্ণনা পড়লে অবাক হতে হয় এই কারণে যে, মানুষ কি অদ্ভুত অদ্ভুত বিষয়ে হিংসা করে থাকে।

হিংসুকের হিংসার কারণে অনেকেই আবার মানসিকভাবে দুর্বল হয়ে যায়। ফলস্বরূপ তারা তাদের নিজেদের যা কিছু আছে তা একসময় হারিয়ে ফেলে এবং হিংসুকের নিয়ন্ত্রণে চলে আসে। তবে যার উপর আল্লাহ তায়ালার রহমত থাকে সে এই ভয়ঙ্কর হিংসা থেকে নিজেকে রক্ষা করতে পারে। আল্লাহ তা’আলা তাদেরকে হেফাজত করেন বলেই তারা নিজেদেরকে বাঁচিয়ে রাখতে পারে এবং মানসিকভাবে শক্ত থাকতে পারে। আবার অনেকে আছে যারা প্রথম একবার দুইবার তো বেঁচে যায়, কিন্তু পরে একাধিক বার হিংসার ফাঁদে পড়ে নিজেদেরকে হারিয়ে ফেলে।

হযরত আবু বকরের স্ত্রী উম্মে ওমান (রাঃ), তিনি হযরত আয়েশা রাদিয়াল্লাহু তা’আলা আনহুর আম্মা। যখন হযরত আয়েশা রাদিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুর উপর অপবাদ আরোপ হয়েছিল তখন তিনি তার মেয়েকে সান্ত্বনা দেয়ার চেষ্টা করছিলেন। আর তিনি তখন খুব মূল্যবান একটা কথা বলেছিলেন।

তিনি বলেছিলেন,

“আমার কন্যা! তুমি চিন্তা করোনা। যে সুন্দরী স্ত্রীকে তার স্বামী খুব ভালবাসে, তাকে হিংসা করে না এমন কেউ থাকেনা। “

উম্মে রুমান আগে থেকেই জানতেন যে মানুষের হিংসা কতটা ব্যাপক।

আনসারী সাহাবীগণ বেশিরভাগ সময় আয়েশা রাঃ আনহুর সাথে রাসূল সাল্লাহু সাল্লাম এর থাকার দিনকেই তাদের হাদিয়া প্রেরণের জন্য বেছে নিতেন।
অনেকেই হযরত আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহু এর উপর অপবাদ আরোপের সাথে জড়িত হয়ে গিয়েছিলেন।

মোটকথা আমাদের নিজেদেরকেই সাবধান হতে হবে হিংসা থেকে এবং হিংসুকের হিংসা থেকে নিজেকে প্রতিরোধ করার ব্যাপারে। আল্লাহ সবাইকে তৌফিক দান করুন।

Leave a Reply