হযরত ইবনে সিরীনের (রহঃ) তাঁর মায়ের প্রতি সম্মান

হযরত ইবনে সিরীন (রহঃ) একজন প্রসিদ্ধ তাবেয়ী ছিলেন। ইলম ও স্বপ্নের ব্যাখ্যায় তাঁর অবদান অনস্বীকার্য। তিনি আনাস বিন মালিক (রহঃ) এর গোলাম ছিলেন। ত্বাকওয়া এবং দুনিয়াবিমুখতার জন্য সাধারণ লোকজন তাঁকে এতটাই চিনতো যে, তিনি যখন বাজারে যেতেন লোকজন তাঁকে দেখে ‘আল্লাহু আকবর’ ধ্বনী শুরু করতো। তিনি তাবেয়ীদের ইমাম ছিলেন। আবু আওয়ানা ইবনে সিরীনের মর্যাদা এভাবেই বর্ণনা করেছেন।

ইবনে সিরীনের যুহদ (দুনিয়াবিমুখতা) এবং তাক্বওয়ার ব্যাপারে আশআসের উক্তি হলঃ
“যখন মুহম্মদ ইবনে সিরীনকে হালাল হারামের বরাত দিয়ে কোন প্রশ্ন করা হতো, তখন তিনি এতোই ভীত হয়ে পরতেন যে, তাঁর অবস্থা বদলে যেত!”

এত মর্যাদার অধিকারী হওয়া সত্ত্বেও, তাঁর মায়ের সামনে তিনি খুব নিম্নমানের একজন লোকের মতো থাকতেন। তাঁর বোন হাফসা বিনতে সিরীন বলেছেন,
“ইবনে সিরীন যখন মায়ের সামনে থাকতেন, তখন মায়ের প্রতি অত্যন্ত বিনয় এবং শ্রদ্ধার কারণে সহজে নিজের মুখ খুলতেন না।”

একবার ইবনে সিরীন (রহঃ) তাঁর মায়ের খেদমতে ছিলেন। এক লোক তাঁর সাথে দেখা করতে আসলো। লোকটি আগে ইবনে সিরীন (রহঃ) কে চিনতেন কারণ তাঁর মজলিসে উনি গিয়েছেন। ওনার জ্ঞান গরীমা সম্বন্ধে জানতেন। যাই হোক, তিনি যখন ইবনে সিরীনকে দেখলেন, দ্বিধান্বিত হলেন। উপস্থিত অন্যান্য লোকদের জিজ্ঞেস করলেন, “ইনিই কি ইবনে সিরীন? উনি কি অসুস্থ? তাঁকে এরকম ভীত সন্ত্রস্ত দেখাচ্ছে কেন?” অন্যরা তাঁকে উত্তরে বলল, “না, তিনি অসুস্থ নন। বরং তিনি যখন তাঁর মায়ের সাথে থাকেন, তখন তাঁর অবস্থা এমন হয়ে যায়।”

হিজরী ১১০ সালে ইমাম মুহম্মদ ইবনে সিরীন (রহঃ) এর ওফাত হয়। তাঁর বয়স হয়েছিল ৮০ বছরের একটু বেশী।
শ্রদ্ধেয় দ্বীনি ভাই ও বোনেরা! আসুন আমরা একটু নিজেদের দিকে তাকাই। আমরা আমাদের চাকরী, ব্যবসার ভয়ে উর্ধ্বতন কর্মকর্তা, কাস্টমারকে কতই না ভয় পাই, তমিজ করে চলি। পাছে চাকরী, ব্যবসা না চলে যায়। অথচ যে মায়ের পায়ের নীচে জান্নাত, সেই মায়ের সাথে একটু গোস্তাখি হয়ে গেলে যে জান্নাত ছুটে যেতে পারে, সেই ভয়ে শঙ্কিত হইনা। সময় কী আসেনি নিজেকে ঠিক করে নেয়ার?

সূত্রঃ সিয়ার আলামুন নুবালাঃ ৪/৬১৯; হুলয়াতুল আউলিয়াঃ ২/৩১০, হাদিসঃ ২৩৫০

Leave a Reply