সন্তানের জন্য তার মায়ের দুয়া

পাকিস্তানের ছোট একটা শহরে এক গরীব পরিবার বসবাস করতো। তাদের একটাই ছেলে সন্তান। তাই তাঁরা তাদের সারাজীবনের সব সম্বল দিয়ে ছেলের জন্য ভালো শিক্ষার ব্যবস্থা করল। ছেলে শহরের বড় একটা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইঞ্জিনিয়ার হয়ে বের হল।

ইঞ্জিনিয়ার হবার কারণে ছেলেটির এক ধনী পরিবারের মেয়ের সাথে বিয়ে হল। প্রথমদিকে ছেলে তাঁর বউ সহ গ্রামে বাবা মার সাথে থাকতো। কিন্তু যতোই দিন যেতে লাগলো, ছেলের বউ গ্রামের সাধাসিধা জীবনের উপর ততোই বিরক্ত হতে থাকলো। অবশেষে একদিন সে তার স্বামীকে শহরে যাওয়ার জন্য অনেক বোঝালো। ছেলে অবশেষে মনে মনে গ্রাম থেকে চলে যাওয়া স্থির করলো।
হঠাৎ একদিন ছেলের চোখ পড়ল পত্রিকায় একটা বিজ্ঞাপনের উপর। এক চাকরীর বিজ্ঞাপন, সৌদিআরবের জেদ্দায়। ছেলে আর কিছুই ভাবলোনা। চোখ বন্ধ করে আবেদন করলো। চাকরীটা ও তার হয়ে গেল। ছেলে তার বউ নিয়ে জেদ্দা চলে গেল। বছরের পর বছর সেখানে বসবাস করতে লাগলো। প্রথম দিকে ছেলে তার বাবা নায়ের জন্য নিয়মিত টাকা পাঠাতো। পরবর্তীতে একসময় সেটা অনিয়মিত হতে থাকলো। কালান্তরে একসময় ছেলে তার বাবা মায়ের কথা বেমালুম ভুলে গেল। 

ছেলেটা সৌদিআরবে থাকার সুবাদে প্রতি বছরই হজ্জ্ব করতো। কিন্তু প্রতি বছরই হজ্জ্বের পর পর সে একটা স্বপ্ন দেখতো, যেখানে কেউ তাঁকে বলছে যে, তার হজ্জ্ব কবুল হয়নি। এভাবে কয়েকবার একই স্বপ্ন দেখার পর সে একজন ভাল আলেমকে স্বপ্নের ব্যাপারে বলল।  সে সেই আলেমকে তার জীবনের সম্পূর্ণ ঘটনা খুলে বলল। আলেম তাঁকে তৎক্ষণাৎ পরামর্শ দিল দেশে ফিরে যেতে এবং তার বাবা মার সাথে দেখা করতে।
লোকটি কালবিলম্ব না করে পাকিস্থানের উদ্দেশ্যে রওয়ানা দিল। অবশেষে অনেক পথ পাড়ি দিয়ে তার গ্রামে প্রবেশ করল। চারিদিকে সবকিছুই বদলে গেছে। কিছুই আগের মতো নেই। সে তার সেই শৈশবের বাড়িটি খুজতে লাগলো। কিন্তু পেলনা। অবশেষে সে একটা ছোট বালককে সামনে পেয়ে তার বাবা মার কথা জিজ্ঞেস করলো। ছেলেটি গ্রামের কিনারায় একটা ভাঙ্গা বাসা দেখিয়ে বলতে লাগলো, “ঐ বাড়িতে এক অন্ধ বুড়ি থাকে। তার জামাই মারা গেছে কয়েকমাস হল। শুনেছি তাদের একটা ছেলে ছিল, সৌদিআরবে থাকতো। কিন্তু আমরা তাঁকে কখনই এখানে আসতে দেখিনি। কি হতভাগা ছেলে! বাবা মায়ের খোঁজ রাখেনা।”

ছেলেটি খুব দ্রুত সেই বাড়ির কাছে গেল। সন্তর্পণে ঘরের ভিতরে সে প্রবেশ করে তার মাকে বিছানায় শোয়া অবস্থায় পেল। ছেলেটি চোখে পানি আটকে রাখতে পারলোনা। কিসের মোহে সে এতদিন তার বাবা মা থেকে দূরে থেকেছে। সে শুনতে পেল তার মা কি যেন বিড়বিড় করে বলছে। ছেলেটা মায়ের আরো কাছাকাছি পৌছলে শুনতে পেল তার মা বলছে,

“হে আল্লাহ! আমি এখন বৃদ্ধ, সেই সাথে অন্ধ। আমার স্বামী ও মারা গেছে। আমাকে মরে গেলে কবরে রাখার মতো কোন মাহরাম পুরুষ ও নেই। তাই আপনার কাছে আমার মিনতি, আমার ছেলেকে আমার কাছে ফিরিয়ে নিয়ে আসুন, যাতে সে আমাকে মাটি দিতে পারে।”
দেখুন কিভাবে সন্তানের জন্য তার মায়ের দুয়া কবুল হয়ে থাকে!

Leave a Reply