সংসার সুখী করতে বোনদের জন্য ২২ টি টিপ্‌স

১। স্বামীর সামনে কখনই আপনার আওয়াজকে উচু করবেন না।কারণ এটি তার কাছে অসম্মানের চিহ্ন স্বরুপ।
২। আপনার স্বামীর দোষত্রুটি, দুর্বলতা বা কোন গুনাহ্‌ কখনই আপনার আত্নীয় বা বন্ধুবান্ধবকে বলতে যাবেন না। কারণ, তারা আপনার স্বামীর সমস্যা দূর করতে পারবেনা, তাছাড়াও আপনি একজন মুসলিমের দোষত্রুটি ঢেকে রাখার সওয়াব হতেও বঞ্চিত হবেন। সমস্যায় পড়লে শুধু আল্লাহকেই বলুন।সাধারণত কেউ যখন অন্যকে স্বামীর দোষ নিয়ে গীবত গায়, অধিকাংশই নিজের দোষগুলো না বলে শুধুই স্বামীর দোষ ফলাও করে বলে থাকে।
৩। সবসময় মেজাজ দেখিয়ে আপনার স্বামীর সাথে কথা বলতে যাবেন না। তার মেজাজ মর্জির উপরেও খেয়াল রাখুন। আপনি জানেন না কোন মুহুর্তে কোন কথা তিনি কিভাবে নিবেন। এভাবে ছোট কথা অনেক সময় বড় হয়ে যায়।

৪। অন্য কোন পুরুষের সাথে আপনার স্বামীর তুলনা করতে যাবেন না। আপনি জানেন না যে, যার সাথে আপনি তুলনা করছেন, সেই ব্যক্তি আসলে কেমন? এরকম হলে বেশীরভাগ সময়ই স্ত্রীর প্রতি স্বামীর ভালোবাসা সম্পূর্ণ বিলীন হয়ে যায়।
৫। স্বামীর কোন পছন্দকে কখনই কটাক্ষ করবেন না।কারণ আপনি নিজেও তার পছন্দের অন্তর্ভুক্ত। তিনি আপনাকে বিয়ে করেছেন সুখের আশায়। তাকে সাধ্যমত খেদমত করে খুশী করার চেষ্টা করুন।
৬। আপনার স্বামীর সেবা বা দেখাশুনার দায়ীত্ব অন্য কারও উপর ছেড়ে দিবেন না, যদিও এরকম অনেকেই থাকবে। আপনি নিজে আপনার স্বামীর দেখাশুনা বা সেবা করুন।
৭। স্বামী খালি হাতে বাসায় আসলে তিরস্কার করবেন না। ব্যাপারটা হাল্কা করে দেখুন।
৮। হাতখোলা বা বাজে খরচ করবেন না। আপনার স্বামী কষ্ট করে মাথার ঘাম পায়ে ফেলে উপার্জন করেন।
৯। স্বামী অন্তরংগ হতে চাইলে কখনই এড়িয়ে যাবেন না অথবা ছুতো দেখাবেন না। তাকে সঙ্গ দিন। পুরুষের জন্য যৌনতা খুব উল্লেখযোগ্য ভুমিকা রাখে। আপনি যদি আপনার স্বামীর এই বিষয়ে যত্নবান না হন, তাহলে অচিরেই অন্য কোন মহিলা এই দায়িত্ব খুব যত্নের সাথে পালন করবে। পুরুষরা বেশী দিন যৌনতা ছাড়া ভালো থাকতে পারে না।
১০। সন্তানদের সামনে কখনই স্বামীর সাথে চিৎকার চেচামেচি করবেন না। যদি করতেই হয় তাদের অগোচরে করুন। যেমনটি আপনি করে থাকেন অন্তরংগ হবার সময়।
১১। অফিসে বা বাহিরে যাওয়ার আগে আপনি আপনার স্বামীর বেশভুষা ঠিক করে দিন।যেমনঃ জামার বোতাম আটকে দিন, টাই থাকলে বেধে দিন ইত্যাদি।
১২। আপনার বান্ধবীদেরকে আপনার বান্ধবী হিসেবেই রাখুন।কখনই তাদেরকে আপনার স্বামীরও বান্ধবী বানাতে যাবেন না।
১৩। স্বামীর জন্য সাজগোজ করার সময় ড্রেসিং টেবিলে যতটুকু পারুন সময় ব্যয় করুন। তাড়াহুড়া করবেন না। কারণ এই সেক্যুলার যুগে আপনার স্বামী তার কর্মস্থলে এমন সব মহিলার মাঝে বসে কাজ করেন যারা ড্রেসিং টেবিলের সামনে ঘন্টার পর ঘন্টা সময় দিয়ে থাকেন।
১৪। বিয়ের সময় আপনার স্বামীর কথার উত্তরে কবুল আপনিই বলেছিলেন, আপনার বাবা, মা, ভাই, বোন কেউই বলেনি। অতএব, আপনার দাম্পত্য সমস্যা আপনাকেই সমাধান করতে হবে। তবে যদি সমস্যা এমন হয় যার কারণে এক সাথে থাকতে পারছেন না, সেটা ভিন্ন কথা।
১৫। আপনি যদি কাজ করে থাকেন এবং আপনার উপার্জন স্বামীর চেয়ে বেশী হয়ে থাকে, সেক্ষেত্রে সাবধান। ভুলক্রমে এটা নিয়ে স্বামীকে কথা শুনাবেন না। মনে রাখবেন, রিযিক আপনি না, আল্লাহ আপনাকে দিয়েছেন।
১৬। যে স্ত্রী অলস হয়, সে আসলে বিকারহীন হয়ে যায়। এটাই নিয়ম। ধীরে ধীরে সেটির জন্য স্বামীও বিরক্ত হতে থাকে। এমনকি এটা অনেক সময় খারাপ দিকে মোড় নেয়।
১৭। ভাল রান্না সব পুরুষই পছন্দ করে। যতটুকু পারুন, ভালো রাধুনী হবার চেষ্টা করুন।
১৮। অল্পেতুষ্টির জন্য আল্লাহর কাছে দোয়া করুন। যে সুখ গাড়ি বাড়ি থাকতেও পাবেন না, সেটা খুব অল্প সম্পদেই পেয়ে যাবেন ইনশাল্লাহ।
১৯। স্বামী বাসায় ফিরলে অন্তত এক গ্লাস পানি হাতে নিয়ে হলেও স্বাগতম জানান।
২০। এমন কোন মহিলার সাথে নিবিড় বন্ধুত্ব করবেন না, যার মাঝে ইসলামিক চেতনা নেই।যার মাঝে বিয়ে এবং বিবাহিত জীবন সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণা রয়েছে।
২১। সন্তানদের যত্ন নিন। তারা আল্লাহর পক্ষ থেকে আমানত এবং সম্পদ। তাদের সঠিক ইসলামিক জ্ঞানে দীক্ষিত করুন।
২২। যে নারী ক্রমাগত আল্লাহর কাছে দোয়া করে থাকে, তিনি আসলেই একজন ক্ষমতাবান নারী। তার জীবনে কল্যাণ আসতে বাধ্য। অতএব আপনার স্বামী এবং পরিবারের জন্য বেশী বেশী দোয়া করুন।

Leave a Reply