রিজিক বাড়ানোর 6 টি রূহানী উপায়// লেখক ইসমাইল কামাদার

রিযিক বা জীবিকা এক রহস্যময় বিষয়। আমাদের অনেকেরই ধারণা রিজিক হচ্ছে টাকা পয়সা কিন্তু সেটা সঠিক নয় রিজিক একটা ব্যাপক বিষয় রিজিক এর মধ্যে স্বাস্থ্য আবার বুদ্ধিমত্তা সময়ের বরকত জীবনের বরকত সন্তান-সন্ততি তাদের সুস্বাস্থ্য তাদের ভালাই এ সবকিছুই শামিল। আর এ সবকিছুর নিয়ন্ত্রণ ই আছে আল্লাহর হাতে। মহান আল্লাহপাক আমাদেরকে রিযিক দান করেন তাই তিনি হচ্ছেন আর রাজ্জাক। রিজিকের মালিক আল্লাহ এটা আমাদের আকিদার অংশ।
আমার রিজিক বাড়ুক এটা সবাই চায়। তবে সবার নিয়াত এক হয় না। অনেকেই আছে যারা দুনিয়ার ভোগ-বিলাসে মত্ত হওয়ার জন্য রিজিক চায় এ লেখা তাদের জন্য নয়। তাদের জন্য যারা রুহানি উপায় নিজেদের রিজিক বাড়াতে চায়। প্রথমেই বলে নেই একজন মুসলমানের রিজিক বাড়ানোর পেছনে কি সংকল্প থাকতে পারে। তার নিয়াত হতে পারে নিজের পরিবারের খেয়াল রাখা আর একজন মুসলমান ভাইকে সাহায্য করা বেশি বেশি দান-খয়রাত করার মাধ্যমে আল্লাহর সন্তুষ্টি পাওয়া এবং সর্বোপরি মুসলমান সমাজকে উপরে তুলে ধরা। আমাদেরকে এইসব সংকল্প পূরণের জন্য আল্লাহর কাছে বেশি বেশি রিযিক চাওয়া উচিত।
নিচে রিজিক বাড়ানোর 6 টি উপায় বর্ণনা করা হলো

১। তাকওয়া

মহান আল্লাহ পাক কোরআনের সূরা আত-তালাক এ বলেন,

“আর যে আল্লাহকে ভয় করে, আল্লাহ তার জন্যে নিস্কৃতির পথ করে দেবেন। এবং তাকে তার ধারণাতীত জায়গা থেকে রিযিক দেবেন। যে ব্যক্তি আল্লাহর উপর ভরসা করে তার জন্যে তিনিই যথেষ্ট। আল্লাহ তার কাজ পূর্ণ করবেন।” (সূরা আত্ব-ত্বালাক্ব: ২-৩)


এটা কোরআনের অন্যতম শক্তিশালী আয়াত এ আয়াতের ভেতর অনেক বড় এক রহস্য লুকিয়ে আছে আমি নিজেই আমার জীবনে অনেকের ক্ষেত্রেই তাকওয়ার শক্তি এবং এর নিদর্শন দেখেছি শুধুমাত্র তাকওয়ার কারণেই এমন জায়গা থেকে রিযিক এসেছে যা কখনো কল্পনাও করেনি। তাকওয়া অবলম্বন করলে অকল্পনীয় স্থান থেকে আসবে কারণ এটা আল্লাহ পাকের ওয়াদা এবং আল্লাহ পাকের ওয়াদা সত্য। কাজেই বিপদে এবং কষ্টের সময় তাকওয়া অবলম্বন করা রিজিক লাভের অন্যতম প প্রধান মাধ্যম। এটা অফুরন্ত রিজিক লাভের এক নম্বর শর্ত।

২। তাওয়াক্কুল

“যে ব্যক্তি আল্লাহর উপর ভরসা করে তার জন্যে তিনিই যথেষ্ট। আল্লাহ তার কাজ পূর্ণ করবেন। আল্লাহ সবকিছুর জন্যে একটি পরিমাণ স্থির করে রেখেছেন।” (সূরা আত্ব-ত্বালাক্ব: ৩)

উপরের আয়াতটাই আবার উল্লেখ করা হলো।
উপরের আয়াতটি আবার বলার উদ্দেশ্য হচ্ছে আমরা আয়াতের প্রথম অংশটা খেয়াল করে কিন্তু দ্বিতীয় অংশ টা ভুলে যাই। প্রথম অংশে বলা হয়েছে তাকওয়ার কথা আর দ্বিতীয় অংশে রয়েছে তাওয়াক্কুল এর কথা।
তাওয়াক্কুল এর অর্থ হচ্ছে কোন কিছু হাসিল করার উদ্দেশ্যে যথাসাধ্য চেষ্টা করা একই সাথে এই বিশ্বাস রাখা যে আল্লাহ যেটা আমাদের বা আমার জন্য কল্যাণকর সেটাই আমাকে দিবেন। জীবনের কঠিনতম সময়ে এই তাওয়াক্কুল মানুষকে শান্তি দেয়, ধীরস্থির এবং সৎ রাখে। আল্লাহর উপর যথাযথ তাওয়াক্কুল রাখলে অসম্ভব স্থান থেকে রিযিক পাওয়া যায়।

৩। দান খয়রাত করা


“এমন কে আছে যে, আল্লাহকে করজ দেবে, উত্তম করজ; অতঃপর আল্লাহ তাকে দ্বিগুণ-বহুগুণ বৃদ্ধি করে দিবেন।” সূরা আল বাক্বারাহ- ২৪৫)

আমরা গরীব দুঃখীদের সাহায্য করার জন্য দান খয়রাত বেশি বেশি করে করব। এতে দুটো লাভ, প্রথম লাভ হলো অন্তরের শান্তি এবং দ্বিতীয় লাভ রিজিক বৃদ্ধি। দান খয়রাতকে আল্লাহ তাআলা দশগুণ থেকে শুরু করে আরো বেশি বৃদ্ধি করে থাকেন। আপনি যে সমস্ত মুসলমানদেরকেই রিজিকের প্রাচুর্যে রয়েছে দেখবেন, খেয়াল করে খুঁজে পাবেন যে তারা সবাই বেশী বেশী দান খয়রাত করতে অভ্যস্ত। তাই তাকওয়া এবং তাওয়াক্কুলের সাথে যদি বেশী বেশী দান খয়রাত করা হয় তাহলে আপনার রিজিক এমন ভাবে বাড়বে যা আপনি কখনো কল্পনাও করেননি।

4. আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা বা শোকরগুজার হওয়া

“যখন তোমাদের পালনকর্তা ঘোষণা করলেন যে, যদি কৃতজ্ঞতা স্বীকার কর, তবে তোমাদেরকে আরও দেব এবং যদি অকৃতজ্ঞ হও তবে নিশ্চয়ই আমার শাস্তি হবে কঠোর। ” (সূরা ইব্রাহীম-৭)

রিজিক বৃদ্ধির চতুর্থ উপায় হচ্ছে আল্লার প্রতি অনেক বেশি শোকরগুজার হওয়া। বর্তমানে আপনার যা আছে তা নিয়েই সন্তুষ্ট থাকা এবং ক্রমাগত আল্লাহর কৃতজ্ঞতা আদায় করা। আপনার চোখে যা ছোট তা আরেকজনের কাছে অনেক বড়। কাজেই কোনো ভাবেই আল্লাহর না শুকরি করা যাবে না। কারণ কৃতজ্ঞতা রিজিক কে বাড়িয়ে দেয় এবং অকৃতজ্ঞতা রিজিক কে ধ্বংস করে। আপনার ওপর দেয়া নেয়ামত গুলো ভালভাবে চিন্তা করুন এবং প্রতিদিন রুটিন করে আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করুন। ইনশাআল্লাহ রিজিক বাড়বেই।

5. তওবা এবং ইস্তেগফার

” অতঃপর বলেছিঃ তোমরা তোমাদের পালনকর্তার ক্ষমা প্রার্থনা কর। তিনি অত্যন্ত ক্ষমাশীল। তিনি তোমাদের উপর অজস্র বৃষ্টিধারা ছেড়ে দিবেন, তোমাদের ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি বাড়িয়ে দিবেন, তোমাদের জন্যে উদ্যান স্থাপন করবেন এবং তোমাদের জন্যে নদীনালা প্রবাহিত করবেন।” (সুরা নুহঃ ১০-১২)

পঞ্চম উপায়টা গ্রহণ করা হয়েছে নুড় আলাইহিসসালাম এর উপদেশ থেকে যা তিনি তার জাতিকে দিয়েছিলেন। তিনি তার জাতিকে উপদেশ দিয়ে বলেছিলেন যদি তারা তওবা ইস্তেগফার করে তাহলে মহান আল্লাহ তা’আলা তাদের রিজিক অনেক বাড়িয়ে দিবেন। উপরের আয়াতে বৃষ্টি সন্তান নদ-নদী বাগান ইত্যাদির কথা বলা হয়েছে যা রিজিকেরই অংশ। পঞ্চম পয়েন্টে অত্যন্ত সহজ। আমরা সবাই প্রতিদিন অনেক গুনাহে লিপ্ত আছে। অতএব আমাদের উচিত বেশি বেশি করে ইস্তেগফার করা তওবা করা। আমাদের নবী রাসুল সাঃ দিনে 100 বার তওবা করতেন। আমরা যদি বেশী বেশী তওবা ইস্তেগফার করি তাহলে ইনশাআল্লাহ আমাদের বেড়ে যাবে বহুগুণ।

6. আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখা

সহীহ বুখারীতে এসেছে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, “যে চায় যে তার রিজিক বাড়ুক এবং তার হায়াত বাড়ুক, সে যেন আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখে।”

The final step is to maintain family ties. A true believer does not break ties with family, and goes out of his/her way to forgive and move on. When we do whatever we can to maintain family ties, the reward is increased Rizq and increased lifespan. This is the Barakah of maintaining family ties.
রিজিক বাড়ার উপায় হচ্ছে আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখা এবং বাঁচিয়ে রাখা। এমন অনেক আত্মীয় থাকবে যাদের সাথে কোনো কারণে কোনো একসময় সম্পর্ক খারাপ হয়েছে এখনো খারাপ আছে। কাজেই আপনি নিজে থেকেই এগিয়ে যান। তাদের সাথে মেলামেশা শুরু করুন, সম্পর্কটা পুনরায় জীবিত করুন। আপনার আত্মীয় স্বজন যদি কখনো আপনার সাথে কোন অন্যায় করে থাকে তাহলে ক্ষমা করে দিন। এভাবে যখন আমরা আমাদের আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখবো এবং বাঁচিয়ে রাখব, তখন আমাদের রিজিক অচিন্তনীয় স্থান থেকে বৃদ্ধি পাবে ইনশাআল্লাহ।
শেষ কথা
সবকিছুর পর মনে রাখতে হবে যে দুনিয়া হচ্ছে আমাদের জন্য পরীক্ষার জায়গা। রিজিক বেশি পেয়ে তা যদি আল্লার সন্তুষ্টিতে ব্যয় না করা হয় তাহলে সে রিজিকের মূল্য কি? বরং যত বেশি রিজিক তত বেশি হিসাব-নিকাশের ঝামেলা। মহান আল্লাহতায়ালা আমাদেরকে হাশরের ময়দানে আমাদের সময়, সম্পত্তি, নিয়ামত এগুলো সব সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করবেন। যাদের বেশি দেয়া হয়েছে তাদের হিসাব হবে বেশি, সময় হবে বড়। কাজেই এ বিষয়টা আমাদেরকে অবশ্যই মাথায় রাখতে হবে।

শেয়ার করে অপর ভি/বোনকে জানার সুযোগ করে দিন 

Leave a Reply