রাসুল পাক (সাঃ) এর শারীরিক বর্ণনাঃ

রাসুল (সাঃ) মক্কা থেকে মদিনায় হিজরতের সময় পথিমধ্যে একটি তাবুর সামনে থামলেন। তাবুর সামনে একজন বৃদ্ধা বসা ছিলেন। তার নাম ছিল উম্মে মা’বাদ। উম্মে মা’বাদ এমন একজন মহিলা ছিলেন যিনি তার তাবুর সামনে দিয়ে যে পথচারীই পার হতেন তাকে খাওয়াতেন। কখনও অন্যথা করতেন না। যখন রাসুল (সাঃ) ও হযরত আবু বকর (রাঃ) বৃদ্ধার তাবুর সামনে থামলেন, বৃদ্ধা কোন কিছুই করলেন না। নাবী (সাঃ) খাওয়ার জন্য কিছু আছে কিনা জিজ্ঞেস করলেন। বৃদ্ধা উত্তর দিলেন যে, তার কাছে যদি খাবার কিছু থাকতো তাহলে জিজ্ঞেস করতে হতো না। রাসুল (সাঃ) তাবুর কোনায় তাকিয়ে একটি খুবই দুর্বল বকরী দেখতে পেলেন। বকরীটার ব্যাপারে জিজ্ঞেস করলেন। বৃদ্ধা বকরো সম্বন্ধে বললেন যে, সেটি এতই দুর্বল যে পালের সাথে চড়তে যেতে পারেনা। রাসুল (সাঃ) জিজ্ঞেস করলেন বকরীটি দুধ দেয় কিনা? বৃদ্ধা উত্তরে বললেন এতেও সেটি আরো দুর্বল। রাসুল (সাঃ) বকরীটির দুধ দোয়ানোর অনুমতি চাইলেন এবং বৃদ্ধা অনুমতি দিলেন। রাসুল (সাঃ) একটা বড় ভান্ড আনতে বললেন। ভান্ডটা পুরোপুরী ভরা না পর্যন্ত তিনি দুধ দুইলেন। অতঃপর উম্মে মা’বাদকে তা থেকে পান করতে দিলেন। এরপর আবু বকর (রাঃ), আমর এবং আব্দুল্লাহ বিন উরাইকিত। রাসুল (সাঃ) সবার শেষে পান করলেন।
এরপর আরো কিছু কথাবার্তার পর রাসুল (সাঃ) প্রস্থান করলেন। উম্মে মা’বাদের স্বামী যখন মেষপাল নিয়ে ফিরে আসলেন, দেখলেন ভান্ডের ভেতর দুধ পরিপূর্ণ। জিজ্ঞেস করলে উম্মে মা’বাদ রাসুল (সাঃ) কে উল্লেখ করে বললেন, “একজন সৌভাগ্যশালী ব্যক্তি আমাদের এখানে এসেছিলেন, তিনিই বকরী থেকে এই দুধ দুইয়েছেন।” স্বামীটি রাসুল (সাঃ) এর শারীরিক বর্ণনা শুনতে চাইলেন। উম্মে মা’বাদ তখন রাসুল (সাঃ) এত জীবন্ত বর্ণনা দিয়ছিলেন যা আজ অবধি সেরা হিসেবে আখ্যায়িত হয়ে রয়েছে। অথচ তিনি রাসুলের সাথে তার একবারই দেখা হয়েছিল। 

উম্মে মা’বাদ বললেন, “আমি দেখেছি তিনি স্পষ্টতই উজ্জ্বল, দীপ্তিশীল, চমৎকার শারীরিক সৌষ্ঠব, সুদর্শন মুখাবয়ব, মাঝারী গঠন, মাথা খুব ছোটও নয় বরং সুন্দর ও রুচিসম্পন্ন, টানা টানা কৃষ্ণকায় চোখ যার পাতা গুলো ঘন ও লম্বা, দৃঢ় কন্ঠ, বুদ্ধিমান, লম্বা ও বাকানো ভ্রু, বিনুনি করা চুল, উন্নত গ্রীবা, ঘন দাড়ি, তাঁর নীরবতা প্রশান্তময় গাম্ভীর্যের পরিচায়ক, আর তাঁর কথা বুদ্ধিবৃত্তিক, তাঁর বাক্যসমূহ হৃদয়গ্রাহী, সিদ্ধান্তগ্রহণ ক্ষমতার পরিচয়সূচক, নগণ্য ও নয় আবার অতিকায় ও নয়, তাঁর ধ্যান ধারণা যেন মুক্তার ন্যায় উন্মোচিত হয়, দূর থেকে তাঁকে দেখতে অসাধারণ সুন্দর দেখায়, কাছ থেকে সর্বশেষ্ঠ। মাঝারী উচ্চতা সম্পন্ন,   দেখে খুব লম্বা বা খাটো মনে হবেনা, তিনজনের মাঝে তিনিই সবচেয়ে মনোরম, তিনি ছিলেন তাঁর সাহাবীদের মধ্যমণি, তিনি কথা বললে সাহাবীরা মন দিয়ে শুনেন আর আদেশ করলে তা পালনের জন্য ব্যতিব্যস্ত হয়ে পড়েন। সাহাবীরা তাঁকে সহযোগিতা এবং খেদমত করার জন্য উন্মুখ থাকেন, তিনি গম্ভীর নন এবং অমূলক নন ।” 
তখন বৃদ্ধার স্বামী বললেন যে, নিশ্চয় এই সে ব্যক্তি যাকে কুরাইশরা খুঁজছে। আমি যদি কখনও তাঁর সাক্ষাত পাই, তাহলে তাঁর বায়াত হব এবং ইসলাম গ্রহণ করব।
লেখাটি ভালো লাগলে শেয়ার করতে ভুলবেন না। 

Leave a Reply