রাতের পর ভোরের শুরু: প্রথম কিস্তি


রাতের বুক চিরে সুবহে সাদিকের আবির্ভাব হচ্ছে। বেলালের সুমধুর আযানের সুর সমস্ত আঁধার ছাপিয়ে রাতের দীর্ঘ নীরবতাকে ভেঙ্গে খান খান করে দিচ্ছে। দোজাহানের শিরমণি প্রিয় নবী (সাঃ) তাঁর হুজরাতে শুয়ে বিশ্রাম নিচ্ছেন। তিনি সারারাত মহান আল্লাহর দরবারে দাঁড়িয়ে নফল সালাত আদায় করে কাটিয়েছেন।
বিলাল (রাঃ) এর আযান শুনেই তিনি রাসুল (সাঃ) জেগে উঠেছেন।ঘুম থেকে জেগেই তিনি প্রথমে তাঁর মেসওয়াক নিয়ে দাঁত মাজা শুরু করলেন। তিনি বললেন,
الْحَمْدُ للهِ الَّذِي أَحْيَانَا بَعْدَ مَا أَمَاتَنَا وَإِلَيْهِ النُّشُورُ
অর্থঃ সমস্ত প্রশংসা মহান আল্লাহতাআলার যিনি আমদের মৃত্যুর পর জীবন দান করেছেন, এবং আমাদেরকে তাঁর কাছেই ফিরে যেতে হবে।   
এরপর তিনি আযানের উত্তর দেয়া শুরু করলেন। মুয়াজ্জিন যখন বললেন, “আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার”। রাসুল (সাঃ) বললেন, ““আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার”। মুয়াজ্জিন যখন বললেন, “আশহাদু আল্লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ।” রাসুল (সাঃ) বললেন, “ওয়া আনা আশহাদু আল্লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ”। অর্থঃ “আমি ও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে আল্লাহ ছাড়া অন্য কোন ইলাহ্‌ নাই”। মুয়াজ্জিন যখন বলেন, “আশাহাদু আন্না মুহাম্মাদার রাসুলুল্লাহ”। অর্থঃ “আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি মুহাম্মদ (সাঃ) আল্লাহর রাসুল (সাঃ)”। নবীজি উত্তরে বললেন, ““ওয়া আনা আশাহাদু আন্না মুহাম্মাদার রাসুলুল্লাহ”। অর্থঃ “আমিও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে মুহাম্মাদ (সাঃ) আল্লাহর রাসুল।” এরপর যখন ব্যাকুলভাবে মুয়াজ্জিন বলল, “হাইয়া আলসসালাহ,হাইয়া আলসসালাহ, হাইয়া আলাল ফালাহ্‌, হাইয়া আলাল ফালাহ্‌”। প্রত্যেক বাক্যের উত্তরে নবীজি তখন বললেন, “লা হাওলা ওয়ালা ক্যু ওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ”। অর্থ, “আল্লাহর ইচ্ছা ছাড়া কোন শক্তি নেই, কোন আশ্রয় নেই।” এরপর মুয়াজ্জিন আযানের শেষ বাক্য গুলো উচ্চারণ করলেন, “আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ”। রাসুল (সাঃ) ও সেগুলো পুনরাবৃত্তি করলেন, “আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ”। অর্থঃ “আল্লাহ সর্বশ্রেষ্ঠ, “আল্লাহ সর্বশ্রেষ্ঠ, তিনি ছাড়া অন্য কোন ইলাহ নাই”।
এরপর আল্লাহর রাসুল (সাঃ) দোয়া করলেন,
لتَّامَّةِ،الدَّعْوَةِ هَذِهِ رَبَّ اللَّهُمَّ
وَالْفَضِيلَةَ، الْوَسِيلَةَ مُحَمَّداً آتِ الْقَائِمَةِ، وَالصَّلَاةِ
هُوَعَدْتَ الَّذِي مَحْمُوداً مَقَاماً وَابْعَثْهُ
অর্থঃ “হে আল্লাহ, এই আযান এবং সালাতের একমাত্র তুমিই রব (প্রভু), হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) কে দান কর সুমহান মর্যাদা এবং জান্নাতের শ্রেষ্ঠতম প্রশংসিত স্থানে তাঁকে অধিষ্ঠিত কর, যার প্রতিশ্রুতি তুমি তাঁকে দিয়েছ।”
এরপর নবীজির গোসলের প্রয়োজন হলে গোসল করতেন। আর না হলে অযু করতেন। কোন কোন সময় তিনি অযু ছাড়াই সালাতে দাঁড়িয়ে যেতেন। কোন এক সময় তাঁকে এ ব্যাপারে জিজ্ঞেস করলে তিনি বললেন, “আমার চোখ শুধু ঘুমায়, আমার অন্তর ঘুমায়না।” (এটা নবীজির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য ছিল)।
অতঃপর তিনি ফজরের দুই রাকাত সুন্নত নামায আদায় করতেন। ফজরের দুই রাকাত সুন্নত নামায আদায়ে তিনি যে সময় নিতেন, অন্য কোন সুন্নত বা নফল নামাযে ততো কম সময় নিতেন না। তিনি এতো কম সময় নিতেন যে, তিনি সুরা ফাতেহা সম্পূর্ণ পাঠ করেছেন কিনা সন্দেহ হতো।

(চলবে)

Leave a Reply