রাতের পর ভোরের শুরু: তৃতীয় কিস্তি

(পূর্ব প্রকাশের পর)
মসজিদে মুসল্লীদের সমাগম হলে বেলাল (রাঃ) রাসুল (সাঃ) এর হুজরার সামনে গিয়ে বললেন, “সালাতের সময় হয়েছে, ইয়া রাসুলুল্লাহ।” রাসুলুল্লাহ (সাঃ) তখন নামায আদায়ের উদ্দেশ্যে হুজরা থেকে বের হলেন। বের হয়ে আকাশের দিকে তাকিয়ে তিনি বললেন,

الل هَُّمَّ إ نِّىأَ ع ُوذ بُ كَ أَنْ أ ضِل أَْو أ ضَل أَْو أَزِلَّ أَْو أُزَلَّ أَْو
أَظْل مَِ أَْو أُظْلََم أَْو أَجَْهَل أَْو ي جَُْهَل عَلَىَّ
“হে আল্লাহ! আমি তোমার কাছে আশ্রয় চাই আমি কাউকে বিভ্রান্ত করি বা কেউ আমাকে বিভ্রান্ত করুক বা আমি কাউকে পদচ্যুত করি বা কেউ আমাকে পদচ্যুত করুক বা আমি কারো প্রতি অত্যাচার করি বা কেউ আমার প্রতি অত্যাচার করুক বা আমি কারি প্রতি মূর্খতাসুলভ আচরণ করুক বা কেউ আমার উপর অশোভনীয় কিছু করুক তা থেকে।”
এরপর মসজিদে প্রবেশ করার সময় বললেন,
 ب سِْمِ الِله والصَّلَاةُ وِالسَّلَام عَلَي رُسْولِ االِل لله هُمَّ افْت حَْ ل ِى
أَْبَوابَ رَْحَمت كَِ
“আল্লাহর নামে প্রবেশ করছি, দুরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক আল্লাহর রাসুল (সাঃ) এর উপর। হে আল্লাহ! আপনি আমার জন্য আপনার রহমতে দরজাগুলো খুলে দিন “
أَعوذُ باللهِ العَظيـم وَبِوَجْهِـهِ الكَرِيـم وَسُلْطـانِه القَديـم مِنَ الشّيْـطانِ الرَّجـيم
“আমি বিতাড়িত শয়তান হতে মহান আল্লাহর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করছি, যিনি মহীয়ান, আশ্রয় প্রার্থনা করছি তাঁর করুনাময় সত্ত্বা এবং শ্বাশ্বত সার্বভৌম শক্তির নামে।” 
রাসুলুল্লাহ (সাঃ) কে মসজিদে ঢুকতে দেখে বিলাল (রাঃ) ইক্বামত শুরু করলেন। মসজিদের ভেতর অন্যান্য সাহাবীগণ ও রাসুল (সাঃ) আসতে দেখে দাঁড়িয়ে কাতার সোজা করলেন। মসজিদে প্রবেশকালে কখনো কখনো তাঁর পবিত্র  চুল থেকে পানি ঝড়তে দেখা যেত, মনে হতো মাত্রই গোসল সেরে এসেছেন। আবার ক্বদাচিৎ এমন ও হয়েছে, সাহাবীরা সবাই নামাযের জন্য দাঁড়িয়ে গিয়েছেন, রাসুল (সাঃ) তাঁর ইমামতির স্থানে দাঁড়িয়েছেন। তখন তাঁর মনে পড়েছে যে তিনি জানাবাত অবস্থায় আছেন। তিনি তাঁর হাত সাহাবীদেরকে ইশারা করে যার যার স্থানে অপেক্ষা করতে বলতেন। তিনি দ্রুত তাঁর হুজরায় যেতেন এবং গোসল করে দ্রুত ফিরে আসতেন। তাঁর পবিত্র মাথা মুবারক থেকে তখন ও পানি ঝড়তে থাকতো। রাসুলে পাক (সাঃ) তাঁর ব্যক্তিগত ব্যাপারগুলো এভাবে প্রকাশ করতেন যেন সাহাবগণ তা থেকে শিক্ষা নিতে পারেন। তিনি সাধারণ মানুষের ন্যায় জীবনযাপন করতেন। কুরআনে আল্লাহ পাক এরশাদ করেন,
وَلَوْ جَعَلْنَاهُ مَلَكًا لَّجَعَلْنَاهُ رَجُلاً وَلَلَبَسْنَا عَلَيْهِم مَّا يَلْبِسُونَ
যদি আমি কোন ফেরেশতাকে রসূল করে পাঠাতাম, তবে সে মানুষের আকারেই হত।(৬ঃ৯)
   (চলবে)

Leave a Reply