রাতের পর ভোরের শুরু: চতূর্থ কিস্তি


রাসুল পাক (সাঃ) ইমামতীর জন্য দাঁড়িয়ে  মুসল্লীদের নিকট তাকিয়ে সবার কাতার সোজা করাতেন। সবার উদ্দেশ্যে বলতেন, “তোমরা কাতার সোজা কর এবং গায়ে গায়ে লেগে দাঁড়াও, সালাত পরিপূর্ণ হবার জন্য এটা জরুরী।” এরপর তিনি তাকবীর বলে সালাত শুরু করতেন। আল্লাহু আকবার বলে হাত বেধে ছানা পড়তেন। নিয়মানুযায়ী সালাত আদায় করতেন। তিনি সুরা/ক্বেরাত অতি ধীরেসুস্থে, একটা একটা আয়াত করে পাঠ করতেন। ফজরের সালাতের প্রথম রাকাতে যে সুরা পড়তেন, দ্বিতীয় রাকাতেতুলনামূলক তাঁর চেয়ে ছোট সুরা পড়তেন। তিনি দুই রাকাতে মোট ৬০ থেকে ১০০ আয়াত পড়তেন। মহান আল্লাহপাক পবিত্র কুরআনে এরশাদ করেছেন,

নামায কায়েম করো সূর্যের হেলে পড়া থেকে রাতের অন্ধকার পর্যন্ত, আর ফজরের কুরআন পাঠ নিঃসন্দেহ ফজরের কুরআনপাঠ পরিলক্ষিত হয়(১৭:৭৮)
জুম্মাবারে রাসুল (সাঃ) প্রথম রাকাতে সুরাহ আস্‌ সাজদাহ(৩২ নং সুরা) এবং দ্বিতীয় রাকাতে সুরাহ আদ্‌ দাহার (৭৬ নং সুরা) পড়তেন। কোন কোন সময় রাসুল (সাঃ) দ্বিতীয় রাকাতে রুকু থেকে উঠে সিজ্‌দায় যাবার আগে দোয়া করতেন। মুসলিম উম্মাহর উপর কোন ফিতনা, বিপদ বা দুঃখ কষ্ট আপতিত হলে অথবা উম্মাহর বিজয় অর্জনের নিমিত্তে তিনি এভাবে দোয়া করতেন। আব্দুল্লাহ ইবনে রাওয়াহাহ (রাঃ), ইনি একজন আনসারী সাহাবী এবং বিখ্যাত কবি, তিনি তাঁর কবিতায় ঘটনাটি বলেছেন এভাবে,
“আমাদের মাঝে আছেন আল্লাহর এমন এক রাসুল,
যার আগমন রাতের বুক চিরে ভোরের আলোর শুভাগমন
তাঁর আল্লাহর কালাম পাঠ শুনে সারা জাহান আকুল”
রাসুল (সাঃ) সালাত শেষে সালাম ফিরিয়ে বসা অবস্থায় তিন বার আস্তাগফিরুল্লাহ পড়তেন। অতঃপর পড়তেন,
“আল্লাহুম্মা আন্তাস সালাম, ওয়া মিন্‌কাস সালাম, তাবারকতা ইয়া জালালী অয়াল ইকরম।”
এরপর তিনি তাঁর ডান দিকে অথবা বাম দিকে ফিরে সাহাবীদের দিকে মুখ করতেন। সাহাবীগণ তাঁর পাক মুখ থেকে এই দোয়াটি শুনতে পেয়েছেন,
“হে আমার রব, যে দিন আপনি আপনার বান্দাদেরকে পুনরুত্থিত করবেন, সে দিন আপনার আযাব/শাস্তি থেকে আমি পানাহ্‌ চাচ্ছি।”
এরপর তিনি ফজরের যিকির আযকারগুলো পড়া শুরু করতেন। এরমধ্যে মদীনা শহরের বিভিন্ন প্রান্ত হতে লোকজন তাদের বাচ্চাকাচ্চা সহ পানির পাত্র নিয়ে নবীর কাছে হাজির হতেন। তারা সেই পাত্রে নবীজির বরকতময় হাত চুবিয়ে তা থেকে বরকত হাসিল করতে চাইতেন। নবীজিও সেই উদ্দেশ্যে তাদের পাত্রে হাত চুবিয়ে দিতেন। তিনি সবার পাত্রেই এভাবে তাঁর হাত মোবারক চুবিয়ে দিতেন, কাউকে বাদ দিতেন না। প্রচন্ড শীতেও রাসুল (সাঃ) এই কাজ করতেন।

একবার গভীরভাবে দৃশ্যটি মনের আয়নায় দেখুন, রাসুল (সাঃ) এই ছোট ছোট বাচ্চাদের দিকে তাকিয়ে স্মিত হাসি হেসে একের পর এক পাত্রে হাত ডুবিয়ে যাচ্ছেন। সেই শিশুরা যদিও মাসুম, নিষ্পাপ; তবুও তারা রাসুলের পাক হাতের বরকত হাসিলের জন্য ব্যতিব্যস্ত। আর তাদের পরিবার দূর থেকে এই দৃশ্য দেখে অত্যন্ত আনন্দিত ও পুলকিত। ধন্য সেই আত্না যে রাসুল (সাঃ) পাক চেহারা মোবারক দেখে তাঁর দিন শুরু করেছে।

Leave a Reply