যে পাঁচটি মুক্তা কুড়ালে আপনি জীবনে সফল হবেন

https://mldos08mxpxf.i.optimole.com/7coOfTk-DcI0CQwl/w:auto/h:auto/q:90/https://i1.wp.com/musafiron.com/wp-content/uploads/2018/03/50070192-shell-with-a-pearl-on-the-beach-300x225.jpg?resize=834%2C626&ssl=1
আমরা সবাই এই জীবনে সফল হতে চাই। এ জন‍্য ছোটবেলা থেকে অনেক চেষ্টা সাধনা এবং কষ্ট করে আসি আমরা। অনেক আশা নিয়ে স্কুলে ভর্তি হই। আমাদেরকে বলে মেট্রিক পাস করলেই সব শেষ। এরপর যখন মেট্রিক পাস করি এরপর বলা হয় ইন্টার পাশ করলেই জীবন সেট। এরপর শুরু হয় মাস্টার্স এবং উচ্চতর শিক্ষা। এরপর চাকরি বিয়ে এবং সংসার। ব্যস এরপর গল্পের শুরু তারা সুখে বসবাস করিতে লাগিল। কিন্তু জীবন তো এরকম সোজা সরল নয়।

রাজা রানীর সুখের রাজ্য ও নয়। আমাদের প্রত্যেকের জীবনে রয়েছে শোক দুঃখ-কষ্ট এবং হতাশা। আমাদের সবারই একই প্রশ্ন, সুখ কোথায়, শান্তি কোথায়, সফলতা কোথায়।
শান্তি আসলে আছে। কিভাবে সেই শান্তি পাওয়া যায় , সে ব্যাপারে ইসলামিক চিন্তাবিদ এবং আলেম মুহাম্মদ আল শরিফ পাঁচটি বিষয়ের কথা বলেছেন। তিনি এই পাঁচটি বিষয়ের প্রত্যেকটিকে একটি একটি করে মুক্তোর সাথে তুলনা করেছেন। যে ব্যক্তি এই পাঁচটি মুক্ত দিয়ে তার জীবনকে সাজাবে, সেই লাভ করবে চির শান্তি এবং চরম তৃপ্তি।

প্রথম মুক্তা: সালাত বা নামাজ কে জীবনের এক নম্বর সঙ্গী করে নেয়া।


সালাত কে জীবনের সঙ্গে অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িয়ে নেয়া। মহান আল্লাহ তায়ালার কাছে সবচাইতে প্রিয় ইবাদত হচ্ছে এই সালাত। শেষ বিচারের দিনে সর্বপ্রথম যে আমলের হিসাব নেয়া হবে তা হচ্ছে সালাত। সালাত কে জীবনের এক নম্বর prioty করে ফেলতে হবে। হাদীসে আছে  হাশরের দিনে বান্দার প্রথম যে হিসাব নেয়া হবে সেটা  সালাত। একজন মানুষ তার জীবনে সালাতকে এক নম্বর priority করে ফেলা উচিত। জীবনের সব সাফল্য সব বরকত এবং আপনার শান্তি আপনার সম্পদ, আপনার পরিবার আপনার সফলতা এ সব কিছুই সুন্দর হয়ে যাবে যদি আপনার সালাত সুন্দর থাকে। একজন বান্দা যত বেশি নামাজ আদায় করে তত বেশি আল্লাহর নিকটে চলে যায়।
এখন প্রশ্ন হতে পারে যে অনেকেই নিয়মিত নামাজ আদায় করে, কিন্তু তাদের জীবনে শান্তি কোথায়। এর অর্থ খুবই সোজা। সালাত আদায়ের পরও যদি জীবনে শান্তি না আসে এর অর্থ তার সালাত ঠিকমতো হচ্ছে না। সে শুধু সালাত নামক ritual পালন করছে। অনুধাবন করছে না এবং আল্লাহর কাছে দুয়া করছে না।

দ্বিতীয় মুক্তা: আল্লার একনিষ্ঠ বান্দা হওয়া কে নিজের ক্যারিয়ার হিসেবে গ্রহণ করা

জীবনের শুরুতেই আমরা সবাই ক্যারিয়ার নিয়ে চিন্তিত হয়ে পড়ি। আমাদের ক্যারিয়ার কি হবে, কি হলে ভালো হয় এসব নিয়েই চিন্তা। ডাক্তার বা ইঞ্জিনিয়ার, না ব্যবসায়ী হব আমরা। এই চিন্তায় আমরা সারাদিন ব্যস্ত হয়ে থাকি। কিন্তু এ সবকিছুই গৌণ। আসল career হলো মহান আল্লাহতালার একনিষ্ঠ বান্দা হয়ে যাওয়া। ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, ব্যবসায়ী, বই বিক্রেতা এরকম পেশা যাই হোক না কেন, মহান আল্লাহতায়ালার একনিষ্ঠ বান্দা হয়ে গেলে যে কোন পেশাই মহৎ। হালাল রিজিক যে পেশার মাধ্যমে আসল সে পেশাই আল্লাহর বান্দার জন্য কল্যাণকর। অতএব আল্লাহ তায়ালার একনিষ্ঠ বান্দা হওয়া হচ্ছে দ্বিতীয় মুক্তা, যা দিয়ে জীবন সাজালে জীবন হবে সুন্দর এবং সাফল্যমন্ডিত।

তৃতীয় মুক্তা: সুখে শোকরএবং দুঃখে সবর করা

দুঃখ এবং সুখ সমন্বয়েই জীবন। কারো জীবনে সুখ বেশি হয় কারো জীবনে দুঃখ বেশী। আবার কারো জীবনে সমান অনুপাতে সুখ-দুঃখ আসতে থাকে। সুখের সময় বেশি বেশি শুকর এবং দুঃখের সময় সবর করা, জীবনে সাফল্য লাভের প্রধান উপায়।
আমাদের রাসুল সাঃ বলেছেন যে একজন মুমিনের জীবন আশ্চর্যময়। যখন সুখ তার জীবনে আসে তখন সে বেশি বেশি শোকর আদায় করে আল্লাহর প্রিয়পাত্র হয়ে। আবার যদি বিপদ আসে তখন সে সবর করে এবং সেজন্য ও আল্লাহর প্রিয়পাত্র হয়ে যায়। এই অবস্থা শুধু মুমিনেরই হয়ে থাকে অন্য কারো নয়। তাই সুখে আত্মহারা হওয়া যাবে না বরং বেশি বেশি শোকর আদায় করতে হবে। অপরপক্ষে দু:খে হতাশ না হয়ে সবর করে তার মোকাবিলা করতে হবে।

চতুর্থ মুক্তা : অতীতের আফসোসের বিষয় গুলো নিয়ে ভাবুন

আমাদের প্রত্যেকের জীবনেই অতীত আছে অতীতে এমন কিছু ঘটনা ঘটে যায় যার কারণে আমরা আফসোস করে থাকি। মনে হয় যদি এভাবে না হয়ে অন্য ভাবে হতো। হতে পারে তা কারো সাথে ব্যবহারে, হতে পারে বাবা-মার সাথে, হতে পারে স্ত্রী পুত্র সন্তানের সাথে। 

তবে এটি অনেককেই বলতে শুনেছি যখন কারো বাবা অথবা মা মারা যান তখন সেই সন্তান এই বলে আফসোস করতে থাকে যে, আমি আমার বাবার জন্য এটা করতে পারতাম আমার মায়ের জন্য ওটা করতে পারতাম, কিন্তু কেন যে করলাম না! এরকম বিষয়গুলো আপনি লিখুন। 

আপনার আফসোস যদি হয় আপনি মন দিয়ে সালাত আদায় করেননি, হতে পারে আপনার পরিবারের সাথে সময় দেননি, হতে পারে আপনার পিতা মাতা বার্ধক্যে পৌছে যাওয়ার পরও তাদের প্রতি খেয়াল রাখেন নি, হতে পারে আপনার সন্তানের যত্ন নেন নি। হয়তো আপনার কোরআন পড়ার অবসর ছিল কিন্তু আপনি কোরআন পড়েননি। আপনার জীবনের আফসোস গুলো কে লিখে ফেলুন এবং prioritize করুন। 

এখন থেকেই শুরু করুন আপনি। নতুন জীবন পেয়েছি মনে করুন।যে সমস্ত কাজ আপনি করতে পারেন নি আগে, সেখান থেকেই শুরু করুন ইনশাল্লাহ আপনি জিতবেন।

পঞ্চম মুক্তা: মনে রাখবেন আপনার জীবনে যা কিছু হবে আপনার তকদির অনুযায়ী হবে এবং মহান আল্লাহ পাকই তকদির নির্ধারণ করে রেখেছেন।

আমাদের জীবনে যা কিছু হয় তার নিয়ন্ত্রণ একমাত্র আল্লাহর হাতে। আমরা চেষ্টা করতে পারি, পরিশ্রম করতে পারি। কিন্তু ফলাফল নির্ভর করবে আল্লাহ যা চান তার উপর। তবে এটা ঠিক, মানুষ যখন কোন কিছুর জন্য চেষ্টা করে তখন আল্লাহ তাকে সেটা দান করেন। আমরা মনে করি আমরা চেষ্টা করলেই সব পেয়ে যা্‌ব, সব হয়ে যাবে। 

এখানেই আসলে ভুলটা করে বসি আমরা। আমরা আসলে বিশ্বাস করি্‌ না, যে ফলাফল আল্লাহর হাতে রয়েছে। তাই যখন অনেক পরিশ্রম এবং চেষ্টার পর আমরা আমাদের আশানুরূপ ফলাফল পাইনা, তখন ভেঙ্গে পড়ি, হতাশ হয়ে যাই। এরকম করা যাবে না।
আমরা চেষ্টা করে যাবো। দরকার হলে আমাদের হাত-পা মস্তিষ্ক পরিশ্রম করে করে ক্লান্ত হয়ে যাবে, কিন্তু সাবধান অন্তর ক্লান্ত করা যাবে না। অন্তরে রাখতে হবে তাকওয়া। তকদিরে বিশ্বাস। বিশ্বাস করতে হবে যা কিছু হয়েছে আল্লাহর পক্ষ থেকেই হয়েছে এবং আল্লাহ যা করেন ভালোর জন্যই করেন। ইনশাআল্লাহ তাহলে আমাদের জীবনে সুখ পরিপূর্ণভাবে আসবে।
আসুন আমরা মহান আল্লাহ তায়ালার কাছে দোয়া করি যেন এই পাঁচটি মুক্তা দিয়ে আমরা আমাদের জীবনকে যথাযথ ভাবে সাজাতে সক্ষম হই। আমিন

শেয়ার করে অন্য এক ভাইকে পড়ার সুযোগ করে দিন 

Leave a Reply