মিসওয়াকের মাহাত্ন্য

আল তারগ্বীব ওয়াল তারহীব গ্রন্থে, মেসওয়াকের গুরুত্ব ও মাহাত্ম্য সম্পর্কে কিছু গুরুত্বপূর্ণ কথা লিখেছেন শাইখ আল মুন্‌যিরি। তিনি অত্যন্ত উচ্চমানের হাদিস বিশারদ ছিলেন। তিনি মিশরে জন্মগ্রহণ করেন। আল মুন্‌যিরি তাঁর এই গ্রন্থে মিস্‌ওয়াকের উপরে একটা অধ্যায়ই রেখেছেন। নিচে তাঁর কিছু কথা তুলে ধরা হলঃ

মিস্‌ওয়াক রাসুলের গুরুত্বপূর্ণ আদেশ

আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,,

যদি আমার উম্মতের উপর কষ্ট না হয়ে যেত, তাহলে আমি সবাইকে প্রত্যেক সালাতের আগে মেসওয়াক করার আদেশ দিতাম

সহি আল বুখারি, ৮৪৭।

 অপর এক বর্ণনায় এভাবে এসেছে,

আমি তাদেরকে প্রত্যেক ওযুর আগে মেসওয়াক এর জন্য আদেশ দিতাম

সহীহ, মুসনাদে আহমাদ ৭৪৬১।

হযরত আলী রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু হতে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,

যদি আমার জাতির উপর কষ্ট না হতো তাহলে প্রত্যেক ওযুর পূর্বে আমি তাদেরকে মেসওয়াক করার আদেশ দিতাম।

আল মু’যাম আল আওসাত, ১২৬০।হাদীসটি সহিহ।

এরপর আল আব্বাস রাদিয়াল্লাহু তাআলা হতে বর্ণিত, তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাহিসসাল্লাম এর নিকট মিস্‌ওয়াক ছাড়া গেলেন। তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু ওয়া সাল্লাম তাকে বললেন,

তুমি অপরিস্কার দাত নিয়ে আমার কাছে এসেছ? যাও, মেস্‌ওয়াক করে সো যদি আমার জাতির উপর কষ্ট না হতো, তাহলে আমি তাদেরকে প্রত্যেক সালাতের জন্য মেসওয়াক করা ফরয করে দিতাম, যেভাবে সালাতের জন্য উযু ফরয করা হয়েছে।

মুসনাদ আল বাযযার, ১৩০৩, সহীহ।

মিস্‌ওয়াক হল রব্বের সন্তুষ্টির কারণ

আয়িশা রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু হতে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু সাল্লাম বলেছেন,

মেসওয়াক মুখ পরিষ্কার রাখে এবং রবের সন্তুষ্টির কারণ।

সুনান আন নাসাঈ, ৫। হাদীসটি সহীহ
ইবনে ওমর হতে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু ওয়া সাল্লাম বলেছেন,

তোমরা অবশ্যই মেসওয়াক করবে, কারণ এটা মুখে সুগন্ধ আনয়ন করে এবং তোমাদের রব্বকে সন্তুষ্ট করে 

মুসনাদে আহমদ, ৫৮৩১। হাদিস সহিহ।

ঘরে ঢুকেই মিস্‌ওয়াক করা সুন্নত

শুরাইখ হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি একবার মা আয়েশা রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু কে জিজ্ঞেস করলাম, যে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাই সাল্লাম যখন ঘরে ঢুকতে, তখন প্রথমে কোন কাজটি করতেন আয়েশা রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু বললেন

তিনি সর্বপ্রথম মেসওয়াক করতেন। 

সহি মুসলিম ২৫৩, সহিহাদিস‌।

রাসুল (সাঃ)তাহাজ্জুদের সালাতের জন্য ঊঠে মিস্‌ওয়াক করতেন।

হুযাইফা রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু হতে বর্ণিত, 

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন তাহাজ্জুদের জন্য রাতে জাগতেন, তখন তিনি মেসওয়াক করতেন 

সহি আল বুখারি, হাদিস নম্বর ২৪৩।
ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন রাত্রি জাগতেন তখন তিনি দুই দুই রাকাত করে সালাত আদায় করতেন এবং এরপর মেসওয়াক ব্যবহার করতেন। 

সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস নাম্বার ২৮৮। হাদিস সহিহ।

মিস্‌ওয়াকের ব্যাপারে কুরআনে আয়াত অথবা ওহী নাযিল হবার আশঙ্কা ছিল

ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, 

আমি মেসওয়াকের জন্য এত বেশি আদিষ্ট হয়েছি যে, আমার মনে হয়েছে, এর ব্যাপারে কুরআনে কোন আয়াত নাযিল হবে অথবা আমার উপর আল্লাহর পক্ষ থেকে ওহী চলে আসবে। 

মুসনাদে আহমদ, ২৯৯৮। হাদিসটি সহীহ।
আনাস রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহসাল্লাম বলেন,

আমাকে এত বেশি মেসওয়াক করার আদেশ করা হয়েছে যে, আমার আশঙ্কা হচ্ছিল হয়তো বেশী বেশী মিস্‌ওয়াক করার কারণে আমার দাত খসে পড়বে।

 মুসনাদ আল বাযযার, ২৪৫৫। সহীহ।

মিস্‌ওয়াক করলে ফেরেস্তারা কি করেন?

আলী রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু হতে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু ওয়া সাল্লাম বলেছেন,

নিশ্চয়ই আল্লাহর বান্দা যখন মিস্‌ওয়াক করে সালাতে দাঁড়ায়, তখন একজন ফেরেশতা তার পিছনে সে দাঁড়ায় এবং তার তেলাওয়াত শুনতে থাকে এরপর সেই ফেরেশতা তার কাছে আসতে আসতে এত কাছে আসে যে, সেই ফেরেস্তার মুখ আর সালাত আদায়কারীর মুখ একত্র হয়ে যায়। ফলে সেই ব্যক্তির মুখনিঃসৃত তেলাওয়াত, সরাসরি সেই ফেরেস্তার অন্তরে প্রবেশ করে।অতএব তোমরা কোরআন তেলাওয়াতের জন্য মুখ পাক রাখ।

মুসনাদ আল বাযযার, ৫৬৮ হাদীসটি হাসান

লেখাটি শেয়ার করে অন্য এক মুসলিম ভাই/বোনকে আমল করার সু্যোগ করে দিন। 

Leave a Reply