ভ্যালেন্টাইন ডে সম্পর্কে কিছু কথা

ভ্যালেন্টাইন্স ডে……একটি অতিপরিচিত ঐতিহ্য। আজকালকার তরুণ, প্রবীণ, বৃদ্ধ সবাই নির্বিশেষে এই দিন পালন করে। ভালোবাসার চেতনা মানুষের মাঝে জাগিয়ে তোলে। কিন্তু মুশকিল হল ভ্যালেন্টাইন্স ডের ইতিহাস সম্পর্কে ওয়াকিবহাল না হয়েই অন্ধের মতো সারা পৃথিবীর মানুষ এই দিনকে পালন করে যাচ্ছে। ভ্যালেন্টাইন্স ডের ইতিহাস ঘাটতে গিয়ে আমি অবাক হলাম বৈকি। 
সেই ইতিহাসের উল্লেখযোগ্য কিছু বিষয় আমি নিচে উল্লেখ করছিঃ
উইকিপেডিয়াতে বলা হয়েছে, ভ্যালেন্টাইন্স ডের সাথে Romantic Love বা –Romance এর অন্তর্নিহিত অর্থে কোনই সম্পর্ক নেই। সেইন্ট ভ্যালেন্টাইন একজন খ্রীষ্টান ধর্ম যাজক। তিনি রোম নগরীতে বসবাস করতেন। সে সময়কার নির্যাতিত ও নিপীড়িত খৃষ্টানদেরকে সাহায্য করার জন্য তাকে কারাদন্ড ভোগ করতে হয়। 

পরবর্তীতে সেসময়কার রোমান রাজা ক্লডিয়াস ২ তার সাথে কথা বলে বেশ impressed হন। সেজন্য তাকে মৃত্যদন্ড থেকে বাঁচানোর জন্য রাজা তাকে সেসময়কার Roman Pegan ধর্মে ধর্মান্তরিত করার চেষ্টা করেন। কিন্তু যাজক ভ্যালেন্টাইন সেটাতে তো রাজি হনই নাই, উল্টো রাজা ক্লডিয়া ২ কে খৃষ্টান ধর্মে ধর্মান্তরিত করার চেষ্টা করেন। এর ফলে তাকে হত্যা করা হয়। দিনটি ছিল ১৪ ফেব্রুয়ারি। 

ভ্যালেন্টাইন্স ডের মূল খুজলে দেখা যায় তা আবদ্ধ হয়ে আছে একটি প্রাচীন রোমান ধর্মীয় আচারের সাথে, যাকে বলা হত Lupercalia. এই রোমান ধর্মীয় অনুষ্ঠানের উদ্দেশ্য ছিল শয়তান তাড়ানো, বসবাসের শহরটিকে পবিত্র করা এবং বিশেষ ভাবে মানুষের মাঝে সন্তান উতপাদনের উর্বরতা বৃদ্ধি করা(বিস্তারিত Wikipedia)। অর্থাৎ এটি purely একটি ধর্মীয় ব্যাপার, যার সাথে ভালবাসার কোন সম্পর্ক নেই। দীর্ঘ ৮০০ বছর ধরে রোমান রা এই দিনটিকে রোমান দেবতা Lupercus এর জন্য উৎসর্গ করে থাকে। Noel Lenski যিনি University of Colorado তে একজন শিক্ষক, বলেন, Lupercus এ অংশগ্রহনকারী সমস্ত নারী পুরুষ মদে নেশাগ্রস্ত এবং উলঙ্গ থাকতো। পুরুষরা মৃত ছাগলের চামড়া ও হাড্ডি দিয়ে নারীদেরকে প্রহার করতে থাকতো। নারীরা ও লাইন দিয়ে পুরুষদের সামনে দারিয়ে থাকতো। কারন তারা মনে করতো এতে তাদের সন্তান ধারণ ক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে। 

অন্য বর্ণনায় পাওয়া যায় যে, Europe এ এইসময়টাতে অর্থাৎ ফেব্রুয়ারী মাসের মাঝের তারিখটিতে পাখীরা তাদের সঙ্গী পাখী নির্বাচন করে থাকে, তাই ইউরোপিয়ানরা এই মাসের এই দিনকে ভালবাসার জন্য উৎসর্গ করে থাকে।

আরেকটি বর্ণনায় পাওয়া যায়, Charles,Duke of Orleans যখন লন্ডন টাওয়ারের জেলে ছিলেন, তখন তিনি তার স্ত্রীকে valentine card পাঠিয়েছিলেন, সাল টি ১৪১৫। কিন্তু তাকে কখনই মৃত্যুদন্ড দেয়া হয়নি এবং তিনি জেলে মারাও যাননি। বরং বৃদ্ধ বয়সে তার স্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছিল। 

আরেকটি বর্ণনায় পাওয়া যায়, খৃষ্টান ধর্মযুদ্ধে কেউ মারা গেলে তাকে Valentine উপাধি দেয়া হয়, কারণ সেইন্ট ভ্যালেন্টাইন তার ধর্ম রক্ষা ও প্রচারেই জীবন হারিয়েছিলেন। 
এখন প্রশ্ন হল, তাহলে কেন ছোট বড় নির্বিশেষে সবাই এই দিন উদযাপন করে? কারাই বা এটাকে প্রোমোট করছে, মদদ দিচ্ছে?  ভালভাবে পর্যবেক্ষণ করলে দেখা যায়, এর আসল মূল প্রোথিত আছে ব্যবসায়। হ্যাঁ ব্যবসা। বিলিয়ন বিলিয়ন টাকার ব্যবসা হয় এই দিনে। যার সুফল ভোগ করে গুটিকয়েক ব্যবসায়িক সমাজ। যে সমস্ত ব্যবসা এই দিনে তুঙ্গে থাকে সেগুলো হলঃ 


১। হোটেল এবং রিসোর্ট ব্যবসাঃ এই ব্যবসা সারা বিশ্বব্যাপি থাকে জমজমাট। প্রেমিক প্রেমিকারা বিভিন্ন দর্শনীয় স্থানে ঘুরতে যান এই দিনে। তবে জরিপে দেখা গেছে, স্বামী স্ত্রীর চেয়ে অবিবাহিত প্রেমিক প্রেমিকা এবং পেশাদার বেশ্যা বা Escort দের আনাগোনাই এই সব হোটেল এবং রিসোর্টে বেশি দেখা যায়। 

২। চকোলেট:  এই দিনে সবাই চায় তার প্রিয় মানুষকে উপহার দিতে। উপহার ছাড়া দিন উদযাপন যেন প্রেমিক প্রেমিকার জন্য এক প্রকার Humiliation. চকোলেট নামক বস্তুটি এই দিনের উপহার সামগ্রী হিসেবে খুবই প্রচলিত। আর কিছু দিক না দিক চকোলেট দেয়া যায়। খরচ ও কম, আবার শুনতেও ভালো লাগে। বিভিন্ন ধরনের চকোলেট এই দিনে গিফট হিসেবে দেয়া হয়। বেশী চলে বিদেশী Dark অথবা normal চকোলেট। যার ফলে এই দিন চকোলেট ব্যবসায়ীদের জন্য স্বর্ণ দিবস। Internet ঘাটলে দেখবেন সারা Online জুড়ে ভ্যালেন্টিন ডে উপলক্ষে চকোলেটের উপর নানা অফার। তবে গিফ্‌ট হিসেবে এই চকোলেটের প্রসার হবার পিছনে কিন্তু আরেকটা ছোট্ট কারণ আছে। সেটা কী জানেন? জানলে অবাক হবেন। সেটা হল যৌনতা। Dark চকোলেট খেলে মানুষের sexual power বাড়ে। এটা মানুষকে উদ্দীপ্ত করে। তাই western রা তাদের sex কে enhance করার জন্য Dark চকোলেট খায়।  বিশ্ব ব্যাভিচার দিবসে এ কারণে চকোলেট অনেক বেশি চলে। 

৩। নেশা জাতীয় দ্রব্যের ব্যবসাঃ যেখানেই অবৈধ নারীর আনাগোনা, সেখানেই বেশী বসে নেশার পসরা। জরিপে দেখা যায়, নারী ও নেশা সবসময় একই সমান্তরালে চলে। ব্যাভিচার দিবসে Escort দের সাথে সাথে বিভিন্ন নেশা দ্রব্য যেমন মদ, ইয়াবা, কোকেন, হিরোয়িন ইত্যাদির ও জমজমাট ব্যবসা চলে। অনেক প্রেমিক প্রেমিকারাও একসাথে নেশা করে থাকে। যার ফলে এই দিনে নেশা জাতীয় দ্রব্যের বিক্রি থাকে তুঙ্গে। 
৪।  ফুলের ব্যবসাঃ ফুলের বেচাবিক্রি মনে হয় এই দিনে সবথেকে বেশী হয়ে থাকে। এই দিনে যা বিক্রি হয় তা বছরে অন্য কোন দিনে হয় না। সারা পৃথিবীর মানুষ এই দিনে ফুল কিনে থাকে। 

৫। Law ফার্ম বা এজেন্সিদের ব্যবসাঃ ভালোবাসার ঠ্যালায় অনেক স্বামী স্ত্রীর মাঝে ডিভোর্স হয়ে যায় এই দিনে। অনেকেই সম্পর্ক ভাঙ্গার জন্য এই দিনকেই বেছে নেয়। এই ভাঙ্গনের প্রধান কারণ থাকে অপর কোন নারী বা পুরুষ যার সাথে সে পরকীয়ায় লিপ্ত ছিল। কিন্তু মজার ব্যাপার হল, পরবর্তীতে আর সেই তথাকথিত প্রেমিক বা প্রেমিকার সাথে আর বিয়েটা হয়ে ওঠেনা। আর যদি হয়েও যায়, ঠিক পরের দিনই সেটার ও ইতি টানতে হয়। গাযাখুরী মনে হচ্ছে? কিন্তু এটাই বাস্তব। ব্যাভিচার দিবসে যারা বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন তাদের অধিকাংশই পরের দিন আলাদা হয়ে যান। জরিপে এর সংখ্যা এসেছে ৪০% এর মতো। আর বাস্তবে তো আরো অনেক বেশী। আর জানতে পড়ুনঃ
আর এই ডিভোর্সের জন্য ফাইলিং করে থাকে Law ফার্ম গুলো। কাজেই, বুঝতেই পারছেন, কেন তাদের ব্যবসা ভাল।


আমি আপনি যদি আমাদের পারিবারিক জীবনে এবং স্বামী স্ত্রীর জান্নাতী ভালবাসায় বরকত চাই, তাহলে আসুন এক্ষুণি বিশ্ব ব্যাভিচার দিবসকে বয়কট করি, অপরকে বয়কটের দাওয়াত দেই। এর অংশ হিসেবে, যত পারুন এই পোস্ট শেয়ার করুন যদি আপনার ভাল লেগে থাকে।

Leave a Reply