পরস্পরকে উপদেশ প্রদানের ক্ষেত্রে ইসলাম কি বলে?

সকল প্রশংসা মহান আল্লাহতাআল যিনি আমাদেরকে সৃষ্টি করেছেন। আমরা তাঁরই ইবাদাত করি এবং তাঁরই কাছে সাহায্য চাই। শয়তানের চক্রান্ত হতে তিনিই আমাদের হেফাযত করেন। আল্লাহ কাউকে হেদায়েত দিলে কেউ তাকে গোমরাহ করতে পারেনা, আর আল্লাহ কাউকে গোমরাহ করলে কেউ তাঁকে হেদায়েত দিতে পারেনা।

পরস্পরকে উপদেশ দেয়া ইসলামের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এটা অনেক বড় ইবাদাত ও বটে। এ ব্যাপারে কোরআন ও হাদিসে অসংখ্য বক্তব্য এসেছে। পুরো কোরআন এবং হাদিস তো আসলে উপদেশ বা নসীহার সমাবেশ। কোরআন থেকে কিছু আয়াত নিচে দেয়া হলঃ

হে মুমিনগণ! আল্লাহকেভয় কর এবং সঠিক কথা বলতিনি তোমাদের আমলআচরণসংশোধন করবেন এবং তোমাদের পাপসমূহ ক্ষমা করবেনযে কেউ আল্লাহ তাঁররসূলের আনুগত্য করে, সেঅবশ্যই মহা সাফল্য অর্জন করবে” (সূরা আল আহযাব, ৭০-৭১)

নসিহা বা উপদেশ দেয়া হল নবীদের বৈশিষ্ট্য। এটা সকল আম্বীয়াগণের প্রধান কাজ ছিল। নবী মুহাম্মদ (সাঃ) এর পর কোন নবি আসবেন না। তাই এই উম্মাহকেই এই কাজ করতে হবে। আগের নবীদের সময় ও এ ধরনের মুমিন বান্দারা ছিলেন যারা উপদেশ দিতেন। যেমন সুরা ইয়াসিনে এক নেককার ব্যক্তির কথা বলা হয়েছে যে তার শহরে বসবাসরত লোকদের উপদেশ দিচ্ছিল। 

অতঃপর শহরের প্রান্তভাগ থেকে এক ব্যক্তি দৌড়ে এল। সে বলল, হে আমার সম্প্রদায় তোমরা রসূলগণের অনুসরণ কর। অনুসরণ কর তাদের, যারা তোমাদের কাছে কোন বিনিময় কামনা করে না, অথচ তারা সুপথ প্রাপ্ত” (সূরা ইয়াসীন, ২০-২১)

পরস্পরকে সদুপদেশ দেয়া বা ভাল কাজের দাওয়াত দেয়াকে মহান আল্লাহ পাক উম্মতে মোহাম্মদীর জন্য ফরয করেছেন। মহান আল্লাহ পাক তার কিতাবে হযরত নুহ (আঃ) এর ঘটনা বর্ণনা করতে গিয়ে বলেন, 

তার সম্প্রদায়ের সর্দাররা বললঃ আমরা তোমাকে প্রকাশ্য পথভ্রষ্টতার মাঝে দেখতে পাচ্ছি।(সুরা আরাফঃ ৬০)

এরপর নুহ (আঃ) তাঁদের কথার বিরোধিতা করে প্রতিউত্তরে বলেন, 

সে বললঃ হে আমার সম্প্রদায়, আমি কখনও ভ্রান্ত নই; কিন্তু আমি বিশ্বপ্রতিপালকের রসূল। তোমাদেরকে প্রতিপালকের পয়গাম পৌঁছাই এবং তোমাদেরকে সদুপদেশ দেই। আমি আল্লাহর পক্ষ থেকে এমনসব বিষয় জানি, যেগুলো তোমরা জান না(সুরা আরাফঃ ৬১-৬১)

একইভাবে মহান আল্লাহপাক তাঁর কিতাবে হযরত হুদ (আঃ) এর কথা উল্লেখ করেছেন যে, যখন তিনি তাঁর জাইতিকে মহান আল্লাহর তাওহীদের দাওয়াত দিচ্ছিলেন, তখন তাঁর জাতি তাঁকে বোকা বলে সম্বোধন করেছিল।

তারা স্প্রদায়ের সর্দররা বললঃ আমরা তোমাকে নির্বোধ দেখতে পাচ্ছি এবং আমরা তোমাকে মিথ্যাবাদী মনে করি। (সুরা আরাফঃ৬৬)

কিন্তু এর বিপরীতে হুদ (আঃ) বললেন, 

সে বললঃ হে আমার সম্প্রদায়, আমি মোটেই নির্বোধ নই, বরং আমি বিশ্ব প্রতিপালকের প্রেরিত পয়গম্বর। তোমাদের কে প্রতিপালকের পয়গাম পৌঁছাই এবং আমি তোমাদের হিতাকাঙ্ক্ষী বিশ্বস্ত। (সুরা আরাফ ৬৭-৬৮)

কাজেই বোঝা যাচ্ছে, ইসলামের দিকে দাওয়াত দেয়া হল আম্বিয়াদের কাজ, যা উম্মতে মোহাম্মদীর উপর পালন করা অবশ্য কর্তব্য। 

হযরত তামীম আদ দারী হতে বর্ণিত যে, রাসুল (সাঃ) এরশাদ করেছেন,

দ্বীন হচ্ছে উপদেশ (নসিহাহ্‌)। লোকেরা জিজ্ঞেস করল, হে রাসুল (সাঃ)- কাকে? রাসুল (সাঃ) এরশাদ করলেন, আল্লাহর, তাঁর কিতাবের এবং তাঁর রাসুলের কথা; মুসলিম শাসক এবং সাধারণ মুসলিমদেরকে বলা।(মুসলিম)

এ লেখায় যা কিছু ভুল তা শয়তানের পক্ষ থেকে, আর যা কিছু সঠিক তা আল্লাহর পক্ষ থেকে।

Leave a Reply