জিলহজের প্রথম বরকতময় দশ দিনে যে চারটি আমল করতে পারেন

শপথ ফজরের,শপথ দশ রাত্রির, শপথ তার, (সূরা আল ফজর: ১-২)

তাফসীর কারদের মতে এখানে যে দশ রাতের কসম খাওয়া হয়েছে তা হলো জিলহজের প্রথম দশ দিন। এটি একটি বিশেষ কসম। একমাত্র জ্ঞানীরাই এর মর্ম বুঝতে পারে। 
ইবনু ‘আববাস (রাযি.) হতে বর্ণিত। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ 

যিলহাজ্জ মাসের প্রথম দশ দিনের আমালের চেয়ে অন্য কোন দিনের আমালই উত্তম নয়। তাঁরা জিজ্ঞেস করলেন, জিহাদও কি (উত্তম) নয়? নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ জিহাদও নয়। তবে সে ব্যক্তির কথা ছাড়া যে নিজের জান ও মালের ঝুঁকি নিয়েও জিহাদে যায় এবং কিছুই নিয়ে ফিরে আসে না।

(সহীহ বুখারীআধুনিক প্রকাশনীঃ ৯১৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৯১৮)
উপর হাদিস দ্বারা এটা প্রমাণিত যে, যিলহজ মাসের প্রথম দশ দিনের মর্যাদা এবং বরকত অত্যন্ত বেশি। সেজন্য আমাদের উচিত হবে এই দশ দিন ইবাদত এবং আমলের মাধ্যমে কাটানো।

এমন সুবর্ণ সুযোগ আমাদের জীবনে পরের বছর নাও আসতে পারে এবং এরকম সুবর্ণ সুযোগ হাতছাড়া হওয়া আখিরাতে অনুতাপের কারন হবে। এ ১০ দিনে অনেক আমলের কথা কোরআন এবং হাদীসে বর্ণিত হয়েছে।

তবে সমস্ত আমলের কথা না বলে বাছাইকৃত চারটি বিষয় বা চারটি দিক লক্ষ্য রাখলে ইনশাআল্লাহ অনেক ফায়দা হাসিল হবে।

প্রথম ৯ দিন নফল রোজা রাখা

জিলহজ মাসের প্রথম.৯ দিন নফল রোজা রাখার মর্যাদা অনেক। বিশেষ করে আরাফার দিন রোজা রাখার মর্যাদা কোরআন হাদিসে অত্যধিক হারে বর্ণিত হয়েছে।

আমাদের রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জিলহজের প্রথম দশদিন যে সমস্ত আমল করার জন্য উৎসাহ দিয়েছেন তার মধ্যে সবচেয়ে বেশি উৎসাহ দিয়েছেন এই নয় দিন নফল রোজা রাখার ব্যাপারে।

হাদীসে কুদসীতে বর্ণিত হয়েছে যে মহান আল্লাহ পাক বলেন

সিয়াম আমারই জন্য। তাই এর পুরস্কার আমি নিজেই দান করব। আর প্রত্যেক নেক কাজের বিনিময় দশ গুণ। 

(বুখারীঃ আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৭৫৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১৭৭০)

 তবে একটা ব্যাপার খেয়াল রাখতে হবে যে ১০ ই জিলহজ অর্থাৎ যেদিন কুরবানী হবে (ঈদুল আযহার দিন), সেদিন রোজা রাখা হারাম। আরাফার দিনে রোজা রাখার যে পুরস্কার বর্ণিত হয়েছে তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল দুই বছরের গুনাহ মাফ হয়ে যাওয়া।

আবু কাতাদা আল-আনসারী হতে বর্ণিত

আর আরাফাত দিবসের সাওম সম্পর্কে আমি আল্লাহর কাছে আশাবাদী যে, তাতে পূর্ববর্তী বছর ও পরবর্তী বছরের গুনাহর ক্ষতিপূরণ হয়ে যাবে।

সহীহ মুসলিম (ইফাঃ)
কাজেই আমাদের উচিত বিশেষ ভাবে এই নয় দিন রোজা রাখা আর যদি তা সম্ভব না হয় তাহলে অন্তত পক্ষে আরাফার দিনে রোজা রাখা। কারণ আমরা জানি না পরের বছরের জিলহজের এই দশটি দিন আমাদের নসিবে আছে কিনা।
টিপঃ যদি আপনি এই দশ দিন রাত জাগার কথা চিন্তা করেন তাহলে অবশ্যই হালকা খাবার খাবেন, এবং বেশি পরিমাণে পানি পান করবেন। এতে ইনশাআল্লাহ আপনার রাত্রি জাগরণ সহজ হবে, গায়ে শক্তি পাবেন এবং একটা পরিষ্কার রিফ্রেশ মাইন্ড নিয়ে পরের দিন কাজ কর্ম করতে থাকবেন। অবশ্যই আপনার পরিবারের সদস্যদের এই আমল গুলোর ব্যাপারে উৎসাহ প্রদান করতে ভুলবেন না।

বেশি বেশি তাসবিহ, তাহমি্‌দ, তাহলিল এবং তাকবীর পাঠ করা

আমাদের প্রিয় নবী রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর শিক্ষা হলো এই জিলহজের প্রথম দশ দিন বেশি বেশি তাকবীর (আল্লাহু আকবার) তাহমিদ (আলহামদুলিল্লাহ) তাহলীল (লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ)  তাসবিহ (সুবহানাল্লাহ) পড়া।
এই জিকির গুলো সব সময় পড়া কর্তব্য। মসজিদে, বাসায়,  রাস্তায়, বাজার ঘাটে যে কোন  জায়গাতেই ওযু ছাড়া এই জিকির গুলো পাঠ করা যায়।

যাতে তারা তাদের কল্যাণের স্থান পর্যন্ত পৌছে এবং নির্দিষ্ট দিনগুলোতে আল্লাহর নাম স্মরণ করে তাঁর দেয়া চতুস্পদ জন্তু যবেহ করার সময়।(সুরা হজ্জ,২৮)

৯ থেকে ১৩ জিলহজ তারিখ পর্যন্ত তাকবিরে তাশরিক পাঠ করা

তাকবিরে তাশরিক হলো, আল্লাহু আকবার আল্লাহু আকবার লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু আল্লাহু আকবার আল্লাহু আকবার ওয়ালিল্লাহিল হামদ।

যার অর্থ হলো আল্লাহ সর্বশ্রেষ্ঠ,  আল্লাহ সর্বশ্রেষ্ঠ, তিনি ছাড়া কোন ইলাহ নাই এবং আল্লাহই সর্বশ্রেষ্ঠ,  আল্লাহই সর্বশ্রেষ্ঠ এবং সমস্ত প্রশংসা একমাত্র আল্লাহরই।

এই আমলটা যেকোনো সময় যেকোনো জায়গাতেই করা যায় এর জন্য অজু লাগে না বা পবিত্রতা ও প্রয়োজন হয় না।

পশু কুরবানী করা

কোরবানি করা,  যা উদিয়া হিসেবেও প্রচলিত, একটি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত। এটা আমাদের নবী ইব্রাহিম আলাই সাল্লাম এর সুন্নাহ। এর মাধ্যমে আল্লাহ তাআলার সন্তুষ্টি অর্জন করা যায়। প্রত্যেক ব্যক্তি যার নিসাব পরিমাণ সম্পদ আছে তার জন্য কোরবানি করা ওয়াজিব।

যাকাতের মত এই নেসাব সম্পদ এক বছর হাতে থাকা শর্ত নয়। ওই কোরবানির তিনদিনের মধ্যেই যদি নিসাব পরিমাণ সম্পদ কারো হয়ে যায় তার উপর কোরবানি ওয়াজিব। কুরবানী করা হয় জিলহজের দশম, একাদশ এবং দ্বাদশ দিন।

যদি কেউ এই তিন দিন ছাড়া অন্য কোন দিন এক হাজার পশুও কোরবানি করে থাকে, তবুও সেটা উদিয়া বা কোরবানী  হিসেবে বিবেচিত হবে না। কোরবানি হিসেবে বিবেচিত হবে শুধুমাত্র এই তিন দিন।

কুরবানীর ক্ষেত্রে মহান আল্লাহ তা’আলা কুরআনে বলেছেন

এগুলোর গোশত ও রক্ত আল্লাহর কাছে পৌঁছে না, কিন্তু পৌঁছে তাঁর কাছে তোমাদের মনের তাকওয়া।(সুরা হজ্জ,৩৭)

 
আজকাল অনলাইনে কেনাকাটা খুব জনপ্রিয় হয়েছে। আমরা অনেকেই অনলাইনে গরু কেনা কাটা করে থাকি। এভাবে পশু কেনাকাটা করার চেয়ে ট্রেডিশনাল যে পশুর হাট হয়, সেখান থেকে বেছে বেছে কষ্ট করে পশু কিনে বাসায় নিয়ে এসে এবং কোরবানি করা হলে তা আমাদের জন্য বেশি ফজিলত পূর্ণ হবে ইনশাল্লাহ।

এই দশদিন নেক আমল খুব বেশি বাড়িয়ে দেয়া

সুনানে ইবনে মাজাহ আমাদের নবী সাল্লাল্লাহু আলাই সাল্লাম বলেছেন এই দশ দিনের আমল আল্লাহ তাআলার কাছে যতনে প্রিয় অন্য কোন দিনের নেক আমল আল্লাহর কাছে ততটা প্রিয় নয়।
আমাদের উচিত হবে এই দশদিন নেক আমল বেশি বেশি করা এবং এর পরিমাণ বাড়িয়ে দেয়া। অন্য সময়ে যে পরিমাণ আমল আমরা করতাম,  ইনশাআল্লাহ এই জিলহজের দশদিন আমাদের সেই আমল গুলো আরো বেশি বেশি বাড়িয়ে দিব।
এক্ষেত্রে আমাদের অফিস অথবা বাসার যে সমস্ত পেন্ডিং কাজ গুলো আছে সেগুলো আমরা আগেভাগেই শেষ করে ফেলব ইনশাআল্লাহ। টিভি, কম্পিউটার, মোবাইলে বিভিন্ন রকমের ভিডিও দেখা এবং অন্যান্য ইন্টারটেইনমেন্ট টাইপের যে সমস্ত কাজকর্ম আছে তা থেকে আমরা দূরে থাকব, যাতে ইবাদতে আমাদের মনোযোগ পূর্ণরূপে দিতে পারি।
নেক আমল কী কী হতে পারে বা কোন কোন নেক আমল করলে আমরা এই শেষ দশ এই জিলহজের এই দশ দিনের ফজিলত আদায় করতে পারব তার একটি তার তার অনেক গুলোর মধ্যে সাতটি প্রধান নেক আমল নিচে লিস্ট করা হলো

বেশি বেশি কুরআন তিলাওয়াত করা

আত তিরমিজি হাদীসে বর্ণিত আছে কুরআন তেলাওয়াতের প্রতি অক্ষরের কমপক্ষে ১০টি করে নেকি তাই এই দশদিনে দশটি করে নাকি কুরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে অশেষ সওয়াব এবং নেকি হাসিল করা সম্ভব। এছাড়া আমরা সূরা ইখলাস তিনবার পাঠ করে একবার কুরআন খতম করার ফজিলত হাসিল করতে পারি।

উমর ইবনু হাফ্‌স (রহঃ) … আবূ সাঈদ খুদরী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর সাহাবীদেরকে বলেছেন, তোমাদের কেউ কি এক রাতে কুরআনের এ-তৃতীয়াংশ তিলাওয়াত করতে অসাধ্য মনে কর? এ প্রশ্ন তাদের জন্য কঠিন ছিল। এরপর তারা বলল, হে আল্লাহর রাসূল! আমাদের মধ্যে কার সাধ্য আছে যে, এমনটি পারবে? তখন তিনি বললেন, “কুল হুআল্লাহু আহাদঅর্থাৎ সূরা ইখ্‌লাস কুরআন শরীফের এক-তৃতীয়াংশ। 

 
(বুখারী,৪৬৪৬, ইঃফাঃ)

অতএব আমরা দেখতে পাচ্ছি কোরআন তেলাওয়াত করা অত্যন্ত ফজিলতের একটি আমল।জিলহজের দশদিন অনেক বেশি বেশি কোরআন তেলাওয়াত আমাদের করা উচিত। আমরা একটা রুটিন করে ফেলতে পারি যে রুটিনে থেকে আমরা কোরআন তেলাওয়াত করব।

জিলহজের এই দশদিন রুটিনটা কে নিজের জীবনের সাথে গেঁথে ফেলার এক সুবর্ণ সুযোগ। আমরা ইনশাআল্লাহ এই সুযোগটা নিতে পারি। তাছাড়া এখন যেহেতু ইন্টারনেটের যুগ তাই অনেকের এন্ড্রয়েড মোবাইলে কুরআনের অ্যাপ ইন্সটল করে রাখতে পারি, যাতে পথে ঘাটে অথবা গাড়িতে বা যে কোন জায়গায় যখন আমরা ফ্রী থাকবো তখন কোরআন তেলাওয়াত করতে পারব ইনশাআল্লাহ।

নিজের আখলাককে সুন্দর করা

ইবন আবূ উমার (রহঃ) … আবুদ দারদা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,
 

কিয়ামতের দিন মুমিনের জন্য মীযানের পাল্লায় সদ্ব্যবহারের চেয়ে অধিক ভারি আর কিছু হবে না। আল্লাহ তাআলা অশ্লীল এবং কটুভাষীকে অবশ্যই ঘৃণা করেন। 

 
সহীহ, সহীহাহ ৮৭৬, রাওযুন নাযীর ৯৪১, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ২০০২ [আল মাদানী প্রকাশনী]

কাজেই আমরা আমাদের চরিত্র বা আখলাককে সুন্দর করার চেষ্টা করব। আমরা পরনিন্দা, গীবত,  আরেকজনের নামে মিথ্যা বলা, অযথা আড্ডা মারা, কারো সাথে বাকবিতন্ডা করা ইত্যাদি থেকে বিরত থাকব।

দান সদকা এর পরিমাণ বাড়িয়ে দেয়া 

দান সদকা একটি গুরুত্বপূর্ণ এবং শক্তিশালী ইবাদত। মানুষ যখন আল্লাহর সামনে হাজির হবে, তখন সে যে অনুরোধটি জানাবে, তার মধ্যে একটি হলো যে, হে আল্লাহ আপনি আমাদেরকে আবার দুনিয়াতে পাঠান। যাতে আমরা দান-খয়রাত করে আপনার সন্তুষ্টি হাসিল করতে পারি।

তাই আমরা এই জিলহজের দশদিন এই শক্তিশালী ইবাদত করব।  কাউকে যদি কর্জে হাসানা দিতে হয় তাহলে আমরা কর্জে হাসানা দিব।

সূরা আত-তাগাবুন এর ১৭নম্বর আয়াতে বলেনঃ

যদি তোমরা আল্লাহকে উত্তম ঋণ দান কর, তিনি তোমাদের জন্যে তা দ্বিগুণ করে দেবেন এবং তোমাদেরকে ক্ষমা করবেন। আল্লাহ গুণগ্রাহী, সহনশীল। (সুরা তাগ্বাবুন, ১৭)

আমাদের মাঝে অনেকের অর্থের ক্ষেত্রে কিছুটা কমতি থাকতে পারে। কিন্তু আমাদের ভুলে গেলে চলবে না যে, একজন মুসলমান ভাইয়ের সাথে হাসিমুখে দেখা করাও অথবা হাসিমুখে কথা বলাও সদকার অন্তর্ভুক্ত,  সুবহানাল্লাহ!।

পিতা মাতার খেদমত করা এবং তাদের সম্মান করা

ইসলামের দৃষ্টিতে  পিতা মাতার মর্যাদা অপরিসীম। মহান আল্লাহ পাক তাঁকে মান্য করা, তাঁর রাসূলকে মান্য করার পর পিতা-মাতার কথা মান্য করার ব্যাপারে নির্দেশ দিয়েছেন।

আবদুল্লাহ ইবনু মাসঊদ (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেনঃ 
 

আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে প্রশ্ন করলাম, সর্বোত্তম আমল কোনটি? তিনি বললেনঃ সময়মত সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করা। আমি জিজ্ঞেস করলাম, তারপর কোনটি? তিনি বললেন, পিতামাতার সঙ্গে সদ্ব্যবহার করা। আমি, জিজ্ঞেস করলাম, তারপর কোনটি? তিনি বললেনঃ আল্লাহর পথে জিহাদ করা। পাছে তিনি বিরক্ত হন, এ ভেবে আমি অতিরিক্ত প্রশ্ন করা থেকে বিরত রইলাম। 

 
(সহীহ মুসলিম, ১৫৪, ইঃফাঃ)
জিলহজের এই দশদিনে আমরা যা করতে পারি, আমাদের পিতা মাতার সাথে অন্যান্য দিনের বা অন্য সময়ের চেয়ে আরেকটু বেশি সময় তাদের সাথে বসে থাকতে পারি। তাদের সাথে কথা বলতে পারি। তাদের সাথে মতবিনিময় করতে পারি।

একই সাথে খেতে পারি এবং অন্য সময়ে যদি তাদের সাথে একবার বা দুইবার দেখা করে থাকি এই সময় আরও বেশি দেখা করতে পারি।

দূরে থাকলে, যদি তাদেরকে ১ বার দিনে ফোন দিয়ে কথা বলে থাকি বা একবার কথা বলার অভ্যাস থাকে তাহলে এই সময়ে আরো ৩ থেকে ৪ বার বা তার চেয়ে বেশি ফোনে কথা বলে আমরা মর্যাদা হাসিল করতে পারি।

বেশি বেশি নফল সালাত আদায় করা

রাবী’আ ইবনু কা’ব আসলামী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, 

আমি একবার রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে রাত যাপন করি। আমি তার পানি এবং তার যা প্রয়োজন তা এগিয়ে দিই। তখন তিনি আমাকে বললেন, চাও। বললাম আমি এ-ই চাই। তিনি বললেন, তাহলে তুমি অধিক সিজদা দ্বারা তোমার নিজের ব্যাপারে আমাকে সাহায্য করবে।

(সহীহ মুসলিম, ৯৭৮ ইঃফাঃ)
নফল নামাজের মধ্যে আমরা যে সমস্ত নামাজকে গুরুত্ব দিতে পারি তাহলো দৈনিক ১২রাকাত সুন্নত নামাজ আদায় করা সালাতুল দ্বুহা বা চাশতের নামাজ পড়া, দুখুলুল মসজিদ নামাজ পড়া, তাহিয়্যাতুল ওযু নামায পড়া এবং তাহাজ্জুদ নামাজ পড়া।

 তাহাজ্জুদ নামাজ পড়া এই জিলহজের শেষ দশ দিনে আসলে খুবই সহজ। কারণ যদি কেউ রোজা রাখার নিয়ত করে তাহলে তাকে তো সেহরিতে উঠতেই হয়। এখন সেহরিতে যে সময়টা ওঠা হয় তার থেকে ৫-১০ মিনিট একটু হাতে রাখলে সেই সময়টাতে তাহাজ্জুদ নামাজ পড়া যায়।

জিকিরের পরিমাণ বাড়িয়ে দেয়া

জিকির অনেক রকম হতে পারে। যেমনঃ সুবহানাল্লাহ, আলহামদুলিল্লাহ, আল্লাহু আকবার।  এছাড়াও আস্তাগফিরুল্লাহ আমরা অনেক বেশি বেশি পড়তে পারি।

আস্তাগফিরুল্লাহ পড়ার ফজিলত অনেক। আমরা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাই সালাম এর উদ্দেশ্যে দুরুদ পড়তে পারি। এর ও ফজিলত অনেক অনেক বেশি।

অনেক বেশি বেশি দোয়া করা

মহান আল্লাহপাক কোরআনে বলেছেন, 

যারা প্রার্থনা করে, তাদের প্রার্থনা কবুল করে নেই, যখন আমার কাছে প্রার্থনা করে। কাজেই আমার হুকুম মান্য করা এবং আমার প্রতি নিঃসংশয়ে বিশ্বাস করা তাদের একান্ত কর্তব্য। যাতে তারা সৎপথে আসতে পারে।(সুরা বাক্বারাহ, ১৮৬)

আমাদের উচিত এই মর্যাদাপূর্ণ ১০ দিনে, দিনে এবং রাতে বেশি বেশি দোয়া করা। প্রতিদিন তাহাজ্জুদ এবং বিশেষভাবে আরাফার দিনে দোয়া করা, ইফতারের আগে দোয়া করা। ইফতারের আগে যে দোয়া করা হয় তা মহান আল্লাহর দরবারে কবুল হয়ে থাকে।

জীবনে পরিবর্তন আনার সর্বাত্মক চেষ্টা করা

আমাদের উচিত প্রত্যেক দিনই আমাদের কিছু না কিছু পরিবর্তন বা উন্নতি সাধন করা, যাতে আমরা একজন ভালো মুসলমান হিসেবে বেড়ে উঠতে পারি। 
মহান আল্লাহ পাক বলেন,

হে ঈমানদার গন! তোমরা পরিপূর্ণভাবে ইসলামের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাও এবং শয়তানের পদাংক অনুসরণ কর না। নিশ্চিত রূপে সে তোমাদের প্রকাশ্য শত্রু।(সুরা বাক্বারা, ২০৮)

কাজেই পুরোপুরিভাবে ইসলামে প্রবেশ না করলে আমরা আসলে মুসলিম হবার মর্যাদা পাবনা। আল্লাহর কাছে জান্নাত পাওয়াটা অসম্ভব হয়ে যাবে। তাই আমাদের উচিত হবে পুরোপুরি ইসলাম এর ভিতরে প্রবেশ করা।
মহান আল্লাহ পাকের কাছে দোয়া করি, যেন তিনি আমাদেরকে এই দশ দিন এবং এই দশ রাত ঠিকমত ইবাদত করে ফজিলত হাসিল করার তৌফিক দান করেন আমিন।

শেয়ার করে অন্য দ্বীনি ভাই/বোনকে আমল করার সুযোগ করে দিন, সদাকায়ে জারিয়ার সুযোগ নিন।

Leave a Reply