Attain quran

কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে আত্মার প্রশান্তি

বর্তমান সময়ে আমরা এত ব্যস্ততার মাঝে হারিয়ে গেছি যে নিজেদেরকে নিয়ে একটু একাকী বসে ভাবার সময় পর্যন্ত ও নেই। শুধু তাই নয়, আমাদের পরিবারের সাথে সুন্দর ভাবে সময় অতিবাহিত করার সুযোগও আমরা পাইনা। আমাদের হাতে অনেক কাজ; মিটিং করতে হবে। পার্টি করতে হবে, বিভিন্ন সোশ্যাল গেদারিঙ্গে যেতে হবে। এত সবকিছু আমাদের জীবনটাকে এতই সংকুচিত করে রেখেছে যে আমরা আমাদেরকে নিয়ে কখনোই ভাবতে পারিনা।

আমরা আমাদের দৈনন্দিন জীবনে যে ইলেকট্রনিক গেজেট গুলো ব্যবহার করি, যেমন মোবাইল, ল্যাপটপ, সেগুলোরও চার্জের প্রয়োজন হয়। একইভাবে আমাদের আত্মার চার্জের প্রয়োজন হয়। প্রতিনিয়ত আত্নার চার্জ হওয়ার একটা অন্যতম মাধ্যম হচ্ছে ঘুম। কিন্তু ঘুমের মাধ্যমে আসলে একটা অংশ চার্জ হয়, অথচ আত্মার প্রধান অংশ চার্জ হওয়ার জন্য অন্য খোরাকের প্রয়োজন।

ভালো ঘুম না হলে যেমন সকালবেলা আমাদের মাঝে ঝিমুনি ভাব আসে। আমরা আমাদের কাজগুলোকে ঠিকমতো করতে পারি না। তেমনিভাবে আত্মার খোরাক যদি না হয়, তাহলে আমাদের নেক আমলগুলো করার ইচ্ছাও কমে যাবে এবং কষ্ট হবে।

মানুষের আত্মার খোরাক এর জন্য দরকার কোরআন। কুরআন শুধুমাত্র একটা ধর্মীয় গ্রন্থ নয়, এটা সকল সমস্যার সমাধান, বরং একটি জীবন ব্যবস্থা।

আমরা শুধুমাত্র আচার-অনুষ্ঠান অথবা বিধি-বিধানের উৎস হিসেবে কোরআন কে চিনতে শিখেছি। কিন্তু ভুলে গিয়েছি যে, এটা আমাদের আত্মা এবং শরীরের জন্য শান্তির বস্তু। যখন আমরা কোরআন তেলাওয়াত শুনি তখন আমাদের অন্তরে এক অদ্ভুত ভালোলাগা বিরাজ করে। এমনকি কোরআন তেলাওয়াত শেষে যখন আমরা ফারেগ হয়ে যাই, তখন সেই অদ্ভুত ভাললাগাটা আমাদের ভেতরে কাজ করতে থাকে।
অসুস্থ অন্তর ও আত্মার চিকিৎসার একমাত্র উপায় হলো বেশি বেশি কোরআন তেলাওয়াত করা।

যেভাবে কোরআন তেলাওয়াত করবেন

প্রথম উপায়। প্রত্যেকদিন কোরআন তেলাওয়াতের অভ্যাস গড়ে তুলুন। যদি এক পৃষ্ঠা পড়ার সময় বা সুযোগ না পান, তবুও অন্তত পক্ষে একটি লাইন পড়ুন। হ্যাঁ, ঠিকই শুনেছেন, একটি লাইন।

দ্বিতীয় উপায়। মন থেকে অন্য সমস্ত চিন্তা ঝেড়ে ফেলে দিয়ে শুধুমাত্র কুরআনের শব্দ গুলোর দিকে মনোযোগ নিবন্ধন করুন। প্রতিটি শব্দ পরিষ্কারভাবে উচ্চস্বরে তেলাওয়াত করুন।

তিলাওয়াতের সাথে সাথে প্রতিটি লাইনের অর্থ যত্নসহকারে ধীরে ধীরে বুঝে বুঝে পড়ুন। ব্যাস এটুকুই, শুধু এই তিনটি কাজ।

কখন কোরআন তেলাওয়াত করবেন

আপনি দিনের যেকোনো সময় কোরআন তেলাওয়াত করতে পারেন। একবার, দুবার অথবা একাধিকবার। কিন্তু মনে রাখবেন, যত গুড় তত মিষ্ট্‌ অর্থাৎ যত বেশি তেলাওয়াত করবেন ততবেশি আপনার উপকার হবে।

সূর্য ঢলে পড়ার সময় থেকে রাত্রির অন্ধকার পর্যন্ত নামায কায়েম করুন এবং ফজরের কোরআন পাঠও। নিশ্চয় ফজরের কোরআন পাঠ মুখোমুখি হয়।

(সুরা ইসরা, ৭৮)

এর ফলাফলে আপনি অবশ্যই বিস্মিত হবেন। আপনি দেখবেন অন্তর থেকে অনেক হালকা, রিলাক্স এবং সুখ অনুভব করছেন। এভাবে যদি আপনি প্রতিদিন কোরআন তেলাওয়াত জারি রাখেন, তাহলে আপনার শরীর সুস্থ থাকবে কারণ যখন আপনার অন্তর এবং আপনার শরীর রিলাক্স হয়, শান্তি পায়; তখন আপনার স্বাস্থ্যও ধীরে ধীরে উন্নত হতে থাকে। যদি আপনার রাতে ঘুমোতে সমস্যা হয় অথবা মনে হয় যে রাতে আপনার ঘুম টা ভাল হচ্ছেনা, তাহলে প্রতিদিন ঘুমুতে যাবার আগে অজু করুন, কোরআন খুলুন এবং জোরে জোরে তেলাওয়াত করুন। এরপর বিছানায় যান এবং আপনার প্রিয় কোন জিকির আজকার করতে থাকুন। ইনশাআল্লাহ সকালবেলা আপনি তরতাজা মন নিয়ে উঠবেন এবং সারাদিন তাজা অনুভব করবেন।

আল্লাহপাক আমাদের আমল করার তৌফিক দিন। আমিন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *