কোরআনে হাফেজ হযরত আবু বকর সিদ্দিক রদিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু

হযরত আবু বকর সিদ্দিক রাঃ তা’আলা আনহু ছিলেন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাই সালাম এর সবচাইতে কাছের সাহাবী। তিনি দুনিয়াতে বসেই জান্নাতের সুসংবাদ পেয়েছিলেন। তিনি প্রথম সাহাবী যিনি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাই সালাম এর পরিবার বহির্ভূত, ঈমান আনয়ন কারি। তার কন্যা হযরত আয়েশা রাদিয়াল্লাহু কে প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু ওয়া সাল্লাম বিবাহ করেছেন। অর্থাৎ তিনি সম্পর্কে রাসূলের শশুর ছিলেন।

তিনি ইসলামের প্রথম খলিফা হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি সম্পূর্ণ কোরআন হেফজ করেছিলেন। তিনি খলিফা থাকাকালীন সময়ে সর্বপ্রথম কোরআন লিখিত আকারে সম্পাদনা করা হয়।

তার বিষয়ে উল্লেখ করার মতো পাঁচটি বিশেষত্ব নিচে সংক্ষিপ্তভাবে দেয়া হলো:

তিনি জাহেলিয়াতের সময় ও কখনো মূর্তিপূজা করেননি

হযরত আবু বকর রাদিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু যখন ছোট ছিলেন তখন তার বাবা একদিন তাকে কাবা প্রাঙ্গণে নিয়ে গেলেন এবং মূর্তিদের পুজো করতে বললেন। এরপর তার বাবা তাকে সেখানে রেখে কোন একটা কাজে বাহিরে গেলেন। তখন কোন এক মূর্তির সামনে গিয়ে আবু বক্কর বললেনঃ “হে আমার খোদা! আমার সুন্দর কিছু কাপড় লাগবে। অতএব আপনি আমাকে সুন্দর কাপড় দিন।” কিন্তু মূর্তির পক্ষ থেকে কোনো সাড়া না আসায় তিনি আরেক মূর্তির কাছে গেলেন এবং বললেন, “আমার কিছু সুস্বাদু খাবার দরকার ছিল। কারন আমার অনেক খিদে পেয়েছে।” কিন্তু সেখানেও তিনি কোনো উত্তর পেলেন না। এই দুটি মূর্তির কাছ থেকে কোন উত্তর না পেয়ে আবু বক্কর রাঃ তা’আলা আনহু ধৈর্য হারালেন এবং একটি পাথর হাতে নিলেন। এরপর একটি মূর্তির উপরে তিনি পাথরটিকে নিশানা করে বলতে লাগলেন, “এই যে আমি এই পাথরটা তোমার দিকে নিশানা করলাম। যদি তুমি সত্যিই খোদা হয়ে থাকো, তাহলে নিজেকে রক্ষা করো।” অতঃপর, তিনি সে মূর্তির দিকে পাথর ছুড়ে মেরে কাবা প্রাঙ্গণ ত্যাগ করলেন। এরপর তিনি কখনোই দ্বিতীয়বার কাবা প্রাঙ্গণে মূর্তির কাছে যাননি।

তিনি একজন ধনাঢ্য ব্যবসায়ী এবং বিচারক ছিলেন।

তিনি ১৮ বছর বয়সে ব্যবসা শুরু করেন। তিনি কাপড়ের ব্যবসায়ী ছিলেন। কাপড়ের ব্যবসা তার পারিবারিক ব্যবসা ছিল। তিনি কখনোই ব্যবসায় কাউকে ঠকাননি। সবসময়ই সৎভাবে ব্যবসা করেছেন। যার কারণে তার ব্যবসায় অনেক বরকত হয় এবং তিনি মক্কার ধনাঢ্য ব্যবসায়ীদের মধ্যে অন্যতম ধনী ব্যবসায়ীতে পরিণত হন। ব্যবসা ছাড়াও তার সততা এবং নিষ্ঠার জন্য সবার কাছে সুপরিচিত ছিলেন।

তার ব্যবসা যতই বাড়তে লাগল সমানতালে সমাজে তার গ্রহণযোগ্যতাও বাড়তে লাগলো। তার অনেক বন্ধু ছিল। তারপরও তিনি অত্যন্ত বিনয়ী থাকতেন এবং বিপন্ন মানুষকে সাহায্য করে আনন্দ পেতেন। দুস্থ অভাবি এবং অসুস্থ দেরকে সাহায্য সেবা শুশ্রূষা করতেন।

যুবক বয়সে তিনি বনি তাইম গোত্রের প্রধান হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন। বনি তাইম হচ্ছে কুরাইশ বংশের একটি গোত্র। এছাড়া রক্তপণ দেয়ার ক্ষেত্রে আবু বকর রাদিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু কে অথরিটি হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছিল। কারন তার বিচার কার্যক্রম ছিল সুষ্ঠু এবং ন্যায়নিষ্ঠ।

তার দাওয়াতে বহু প্রথম দিককার সাহাবী ইসলাম গ্রহণ করেছেন।

হযরত আবু বকর রাদিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু তার সামাজিক প্রভাব ও প্রতিপত্তি কে, মানুষকে ইসলামের দিকে দাওয়াতের কাজে ব্যয় করেছেন। তিনি ইসলামকে তার পরিচিতদের মাঝে এমনভাবে উপস্থাপন করেছেন যে, অধিকাংশই তার কথার দ্বারা আশ্বস্ত হয়ে ইসলাম গ্রহণ করেছে। আবু বক্করের দাওয়াতের মাধ্যমে যারা ইসলাম গ্রহণ করেছেন তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেনঃ
উসমান ইবনে আফফান, আল যুবায়ে্‌ তালহা ইবনে উবায়দুল্লাহ, আব্দুর রহমান বিন আউফ্‌, সাদ ইবনে আবি ওয়াক্কাস, আবু উবাইদা ইবনে আবু সালাম্‌ ইবনে সাঈদ আবু হুজাইফা, প্রমুখ রাদিয়াল্লাহুয়ানহুম।

তার খিলাফতকালে তিনি অভাবনীয় কার্যক্রম পরিচালনা করেন

হযরত আবু বকর রাদিয়াল্লাহু তা’আলা আনহুর খিলাফতকাল ছিল ২৭ মাস। এই সামান্য সময়ে তিনি অভাবনীয় সাফল্য অর্জন করেন তারমধ্যে উল্ল্যেখযোগ্য হলঃ
রিদ্দা যুদ্ধে আরব বিদ্রোহী আরব গোত্রদের প্রতিহত করা, কোরআনকে লিখিত আকারে পান্ডুলিপি হিসেবে সংরক্ষণ করা, ইয়ামামার যুদ্ধে ৭০০ হাফিজ শহীদ হওয়ার পর এই উদ্যোগ গ্রহণ করেন।
মেসোপটেমিয়া এবং বাইজেন্টাইন এর বিরুদ্ধে খালিদ বিন ওয়ালিদ কে যুদ্ধে প্রেরণ করে সাফল্য অর্জন করেন।

তিনি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাই সাল্লাম কে সবচেয়ে বেশি অনুসরণ করেছেন।

যখন আবু বকর রাদিয়াল্লাহু তা’আলা আনহুর শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটতে থাকলো, তিনি বুঝলেন তার দুনিয়ার জিন্দেগীর সময় শেষ হয়ে এসেছে। তিনি হযরত আলী রাদিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু কে ডাকলেন এবং অনুরোধ করলেন যেন তার গোসলটা হযরত আলী সম্পাদন করেন। কারণ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের গোসল হযরত আলী রাঃ আনহু সম্পাদন করেছিলেন।

এরপর তিনি হযরত আয়েশাকে জিজ্ঞেস করলেন যে, রাসূল সাল্লাহু সাল্লাম এর জন্য কয় টুকরো কাপড় ব্যবহার করা হয়েছিল? হযরত আয়েশা বললেন, তিন টুকরা। হযরত আবু বকর একই কাজ করতে বললেন।

হযরত ওমর রাদিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু আবু বক্কর (রাঃ)এর জানাজার নামাজ পড়ান। অতঃপর হযরত আবু বকর রাদিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু কে রাসূল সাল্লাল্লাহু সালামের কবরের পাশে দাফন করা হয়।

Leave a Reply