আল্লাহ্‌র ভয়ে কাঁদা

আশরাফ একজন মধ্যবয়সী পুরুষ। বয়স প্রায় পয়ত্রিশোর্দ্ধ। এক কন্যা সন্তানের জনক। কন্যার বয়স প্রায় ৪ বছর। নিত্যদিনের অফিস শেষে যখন তিনি বাসায় ফেরেন, চেষ্টা করেন এশার নামায জামাতে আদায় করে আসতে।তার বাসাএ আসার পথেই মসজিদ। কাজেই কাজটা একটু সহজ।
——————————————————–
জুম্মাবারের খুতবায় একদিন ইমাম সাহেব বললেন, “উপস্থিত মুসল্লীগণ, আপনারা বেশী বেশী আল্লাহর কাছে কান্নাকাটি করুন। আমাদের অন্তর এতই কঠিন হয়ে গিয়েছে যে, আল্লার ভয়ে
অন্তর ও কাঁদেনা, চোখ তো কাঁদেই না। তবে আপনাদের বলছি, প্রয়োজন হলে কান্নার ভান করুন, তাতেও লাভ আছে। আল্লাহ খুশী হবেন। আর এভাবে দেখবেন একদিন সত্য সত্যই কেঁদে ফেলেছেন।”
আশরাফ সাহেব কথা শুনে মনে মনে হাসলেন। ভাবলেন, মেকী কান্না কেঁদে কী লাভ? যদি সত্য সত্যই কান্না না আসে। ইমাম সাহেব বেশ জানেন ঠিকই, কিন্তু মাঝে মাঝে কিছু কথা বলেন যা যুক্তিতে ধরেনা।কারণ আশরাফ সাহেব বেশ কয়েকবার এভাবে কাঁদার চেষ্টা করেছেন। কিন্তু তার কাছে এটা হাস্যকর লেগেছে। এভাবে মেকী কান্না দিয়ে কি আর আসল কান্না কাঁদা যায়?
—————————————————————
এশার নামায পড়ে বাসায় এসে সুন্নত পড়ছেন আশরাফ সাহেব। অফিস থেকে এসে ছোট্ট মেয়েটিকে বেশীক্ষণ কোলে না নিয়ে নামাযে দাড়িয়েছেন তিনি। পিতার আনাবিল আদর সোহাগ পেতে উন্মুখ কন্যাটি বারবার নামাযেরত পিতার আশেপাশে ঘুরঘুর করে বেরাচ্ছে। কোন লাভ হবেনা জেনেও মেয়েটি বারাবার কান্নার ভান করছে, আর বলছে, “বাবা, বাবা, প্লিজ কোলে নাও, প্লিজ! চলো বাহিরে ঘুরতে যাই, উহু উহু উহু,(কান্নার ভানসুলভ শব্দ)।” নামাযে থাকা অবস্থায়ও আশরাফ সাহেব বুঝতে পারছেন ব্যাপারটা। তিনি বেশ মজা পাচ্ছেন, সেই সাথে একটা শান্তিও। কি মায়াই না লাগছে মেয়েটাকে দেখে। সেই তখন থেকে কাদবার চেষ্টা করছে।
————————————————————————-
হঠাৎ ইমাম সাহেবের কথাটা আশরাফ সাহেবের মাথায় বিদ্যুতের মত খেলে গেল। পিতা হয়ে কন্যার এই মেকী কান্নায় যদি এত সন্তুষ্টি থাকে, তাহলে মহান আল্লাহ পাক, যিনি মানুষের স্রষ্টা, বান্দার প্রতি যার মায়া, রহমত অকল্পনীয়; তিনি কতটাই না সন্তুষ্ট হন এমন অভিনয়ে। ভেবে আশরাফ সাহেবের চোখ দুটি ঝাপসা হয়ে এল।
—————————————————————————-
আরে! সত্যিই তো চোখে পানি এসে গেছে আমার। ইমাম সাহেব তাহলে ঠিক ই বলেছিলেন। আল্লাহর কাছে মেকী কান্নাই একদিন সত্যিকারের কান্নার পথ করে দেয়। আলহামদুলিল্লাহ!

Leave a Reply