আল্লাহর ভয়ে চোখে পানি আনার ছয়টি সহজ উপায়

সুন্দর সুরে মহান আল্লাহপাকের কোরআন তেলাওয়াত শুনুন।

রাসুল সাঃ সাহাবীইবনে মাসউদ ইবনে মাসউদ রদিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুকে বলেছিলেন, আমাকে কুরআন পড়ে শোনাও। আমি বললাম হে আল্লাহর রসূল, আমি আপনাকে কোরআন পড়ে শুনাবো অথচ কুরান আপনার উপর নাযিল হয়েছে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উত্তর বললেন আমি পছন্দ করি যে কেউ আমাকে কোরআন পড়ে শুনাবে এবং আমি তা শুনবো।
অনেকেই হয়তো এই হাদিসটা আগে শুনেছেন কিন্তু এবার একটু ভিন্নভাবে চিন্তা করুন ছোট্ট একটু কষ্ট করুন ভালোভাবে অজু করুন এরপর একটা নীরব কামরায় বা নীরব জায়গায় বসে পড়ুন যদি কোরআন তেলাওয়াত করার মত কেউ না থাকে তাহলে আপনার মোবাইল বা সাউন্ড বক্সে সুন্দর সূরের কোরআন তেলাওয়াত ছেড়ে দিন এবং শুনতে থাকুন শুরু করার আগে চোখ বন্ধ করে নিজের মন থেকে বাহির এর সমস্ত চিন্তা দূর করে ফেলুন। তেলওয়াত শোনার আগে অবশ্যই আউযুবিল্লাহি মিনাশ শাইত্বনির রজীম পড়ে নিবেন কারণ শয়তান চায়না আপনি কোরান মন দিয়ে শোনা তো দূরের কথা কোন ভাবেই যেন না শুনেন।
ইনশাআল্লাহ দেখবেন আপনার অনুভূতি কি রকম আশ্চর্যজনক ভাবে পরিবর্তিত হয়ে যাচ্ছে আপনি কোরানের সুমধুর ধ্বনি আপনার মরমে অনুভব করতে পারবেন। সূরা হাদীদ মহান আল্লাহ পাক আমাদেরকে বলছেন

যারা মুমিন, তাদের জন্যে কি আল্লাহর স্মরণে এবং যে সত্য অবর্তীর্ণ হয়েছে, তার কারণে হৃদয় বিগলিত হওয়ার সময় আসেনি? তারা তাদের মত যেন না হয়, যাদেরকে পূর্বে কিতাব দেয়া হয়েছিল। তাদের উপর সুদীর্ঘকাল অতিক্রান্ত হয়েছে, অতঃপর তাদের অন্তঃকরণ কঠিন হয়ে গেছে। তাদের অধিকাংশই পাপাচারী।” (57:16) 

 বেশি নয় মাত্র এক মিনিটের অনুশীলন:

দৈনিক মাত্র মিনিট আপনার সাথে মহান আল্লাহ পাক সম্পর্কে চিন্তা ভাবনা করুন। আপনি কি কখনো চিন্তা করেছেন বা ভেবে দেখেছেন যে আপনার প্রতি আল্লাহ কত শত নিয়ামত নাযিল করেছেন শুধু তাই নয় তিনি বারংবার নিয়ামত আর নিয়ামতি আপনাকে দিয়ে গিয়েছেন দিয়ে যাচ্ছেন এবং সামনে আরো দিবেন আর পরকালের তো তার মহান ক্ষমা এবং জান্নাত আছে ই। হয়তো আপনি আমি এক ওয়াক্ত নামাজ ছেড়ে দিয়েছি জামাত ধরতে পারছি না কিন্তু তাই বলে তো আল্লাহ তাআলা তার নিয়ামত আমাদের থেকে হরণ করে নিচ্ছেন না আমাদের খাবার দিচ্ছেন আমাদের সুস্থ ভাবে শ্বাসপ্রশ্বাস নেওয়ার ক্ষমতা দিচ্ছেন সমস্ত বিপদ আপদ থেকে বাঁচিয়ে রেখেছেন আরো অনেক কিছু। আপনার আমার হয়তো তার দেয়া কুরআন পড়ার সময় হচ্ছে না। কিন্তুমহান আল্লাহ আমাদের সময় দিয়েই যাচ্ছেন যদিও সেই সময় সেই অবসর আমরা ফেসবুক এবং টুইটারে কাটিয়ে দিচ্ছি।
কখনো কি আমরা ভেবে দেখেছি মহান আল্লাহ পাকের মহত্ব তার শক্তি এবং আমাদের দুর্বলতা, আমাদের অসহায়ত্ব। তাহলে আজ রাতে একাকী কোথাও বসুন এবং এক মিনিট হলেও চিন্তা ভাবনা করুন যে সেই মহান আল্লাহ তায়ালার সামনে আমাকে বা আপনাকে দাঁড়াতে হবে। সারা জীবনের সমস্ত কাজ সমস্ত কর্ম সম্পর্কে জবাবদিহি করতে হবে তখন কি হবে আপনার বা কিভাবে আমরা আমাদের কৃতকর্ম সাফাই গাব। যেখানে বসে আছেন সেখান থেকে উপরে তাকান এবং অনুভব করুন যে মহান আল্লাহ পাক আপনাকে দেখছেন। এই অনুভব করুন যে আপনি তার থেকে কত দূরে রয়েছেন।
হযরত সালমান ফারসী রদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু বলেন তিনটা বিষয় আমাকে কাদায় রাসূল সাল্লাল্লাহু ওয়া সাল্লাম থেকে আলাদা হয়ে যাওয়া, দ্বিতীয় মৃত্যুর ভয়াবহতা এবং তার ভয়াবহতা এবং মহান আল্লাহ পাকের সামনে দাঁড়ানো অথচ আমি জানিনা আমাকে কি জান্নাত দেয়া হবে জাহান্নাম দেয়া হবে।

  দিনের প্রতিটি কাজকে আখিরাত এবং দ্বীনের সাথে সম্পর্কযুক্ত করা।

একবার হযরত হাসান রদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু এর কাছে এক গ্লাস পানি আনা হলে তিনি তা দেখে কেঁদে দেন এবং বলেন আমার মনে পড়ছে সেই সব জাহান্নামবাসীর কথা যারা জাহান্নামের আগুনে জ্বলতে থাকবে এবং বলতে থাকবে আমাদেরকে কিছু পানি দাও। অথচ তাদেরকে উত্তরে বলা হবে নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ তাআলা তোমাদের জন্য জান্নাতের খাদ্য দ্রব্য এবং পানি হারাম করেছেন।

 মহান আল্লাহর কাছে বেশী বেশী দোয়া করা:

রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, হে লোক সকল তোমরা কাদো, যদি তোমরা কাদতে না পারো তাহলে জোর করে কাঁদো কারণ জাহান্নামবাসীরা এতো বেশী কাঁদবে যে তাদের গাল বেয়ে কান্না ঝরে পড়বে এবং এক পর্যায়ে কান্না শুকিয়ে যাবে ফলে পানি বের না হয়ে রক্ত বের হবে। (সহিহ আত তারগীব
এজন্য আমাদের উচিত হবে মহান আল্লাহ তায়ালার কাছে দোয়া করা যেন আমাদেরকে তিনি তার ভয় এবং ভালোবাসায় বেশি বেশি করে কান্নাকাটি করার তৌফিক দান করেন। কারণ আল্লাহ পাক কোরআনে বলেছেন
যারা আমার পথে সাধনায় আত্মনিয়োগ করে, আমি অবশ্যই তাদেরকে আমার পথে পরিচালিত করব। নিশ্চয় আল্লাহ সৎকর্মপরায়ণদের সাথে আছেন।” [29:69]   
অতএব আমরা যদি আল্লাহর কাছে তৌফিক চাই তাহলে অবশ্যই আল্লাহ আমাদেরকে সেই তৌফিক দান করবেন

 জীবনের দুঃখ কষ্টের সময় গুলোতে আল্লাহকে স্মরণ করা :

মানুষের জীবনে কষ্ট সুখ কষ্ট এভাবেই বিষয়গুলো আসে। সুখ এবং কষ্ট একে অপরের সাথে মিলেমিশে আসে যেমন মুদ্রার এপিঠ আর ওপিঠ।আপনার মন খারাপ? আল্লাহর কাছে দোয়া করেন।আপনাকে দেয়া নেয়ামত এর জন্য আল্লাহ তালাকে ধন্যবাদ জানান। ইনশাআল্লাহ এতে আপনার সাথে আল্লাহর সম্পর্ক অত্যন্ত মজবুত হবে যা আপনাকে খুব সহজেই সাহায্য করবে কান্নাকাটি করতে।

 দোয়া করার সময় কান্নাকাটি করা।

এখন থেকে যখনই আপনি আল্লাহ পাকের কাছে কোন কিছু চাবেন, আপনার ভেতরের সমস্ত ইমোশন দিয়ে চাবেন। মানুষ যখন সমুদ্রের মাঝখানে পড়ে যায় এবং ডুবতে থাকে, তখন সে আল্লার কাছে নিজের জীবন কি ভাবে ভিক্ষা চায় তা একবার ভেবে দেখুন। দুয়া হতে হয় রকমই। অর্থাৎ দোয়া করার সময় নিজের দেহ এবং মন পুরোটাই যথাসম্ভব একযোগে খাটিয়ে দোয়া করতে হয়। তাহলে এটা আল্লাহর দরবারে কবুল হয়ে থাকে। মহান আল্লাহর কাছে ভয় এবং আশা এই দুটোর মাধ্যমে দোয়া করতে হবে। রুমার রাদিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু বলেন যদি আসমান থেকে ঘোষণা দেয়া হয় যে সবাই জান্নাতে যাবে শুধু একজন ছাড়া আমার ভয় হয় যে আমি হয়তো বা সেই ব্যক্তি হবো যে জাহান্নামে যাবে আর যদি ঘোষণা দেওয়া হয় যে সবাই জাহান্নামে যাবে শুধু একজন ছাড়া তাহলে আমার আসা হয় যে সে একজন ব্যক্তি আমি হব। ওমর রাদিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু ছিলেন অত্যন্ত অত্যন্ত সফল মানসিকতার মানুষ কিন্তু তিনি আল্লাহর ভয়ে অঝোর ধারায় কাঁদতেন। অঝোর ধারায় কাঁদতেন আবু বকর রাদিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উসমান রাদিয়াল্লাহু তাআলা তায়ালা আনহু এবং অন্যান্য সাহাবীগণ। তারা যদি এতো বড় সাহাবী হয়ে এভাবে কান্নাকাটি করে থাকেন তাহলে আমরা কোথায়?

শেয়ার করে অন্য ভাইকে আমল করার সুযোগ করে দিন।

কাজেই মহান আল্লাহ পাকের কাছে বেশি বেশি কান্না করার চেষ্টা করুন যদি কান্না না আসে তাহলে অভিনয় করুন ইনশাআল্লাহ অভিনয়ের বরকত বরকতে হলেও কান্না করার যোগ্যতা হাসিল হবে। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর কাছে কান্নাকাটি করার যোগ্যতা লাভের জন্য দোয়া করতেন।

Leave a Reply